বগুড়ায় শজিমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট

জয়পুরহাটের কালাই থেকে রাহিমুল হাসান তার অসুস্থ মা'কে নিয়ে আসছেন ডাক্তার দেখাতে। এসে টিকিট কাটলেও মা'কে আর দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, টিকিট কাটার পর সব বন্ধ। এখন কি করব! শুনছি সেবা সব বন্ধ।

নওগাঁ থেকে পা ভাঙা নিয়ে আসা শিফাত বলেন, মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছি, বাম পা ভেঙে গেছে। এখন ডাক্তার নেই, নার্স নেই। চিকিৎসা নিয়ে সংশয়ে আছি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চত্বরে।

এদিন হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বহিঃ বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহিঃ বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কাউন্টার চালুর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বুধবার দুপুরে সংবাদ ব্রিফিং করে তারা অভিযোগ করেন, হামলায় অন্তত ১৭ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন, যার মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের সেবা বন্ধসহ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে মারামারির ঘটনার পর সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়ে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, বহির্বিভাগে কিছুটা সমস্যা হলেও মূল চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে না। মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা সেবা প্রদান চালু রেখেছেন।