ফ্যাটি লিভার ও যকৃতের সুরক্ষা

আধুনিক জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সহজ কথায়, লিভার বা যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার নামই ফ্যাটি লিভার। হাসপাতালে বা চেম্বারে এমন অনেক রোগী পাওয়া যায়, যারা প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ বুঝতে না পেরে পরবর্তী সময় মারাত্মক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

ফ্যাটি লিভার প্রধানত দুই প্রকার অ্যালকোহলজনিত এবং নন-অ্যালকোহলিক বা অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার। অ্যালকোহল গ্রহণ না করা সত্ত্বেও ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, রক্তে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত শর্করা, কোমল পানীয় এবং তৈলাক্ত খাবার খাওয়া ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব এর প্রধান কারণ।

প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো তীব্র লক্ষণ থাকে না। তবে পেটের ডান দিকের উপরিভাগে মৃদু ব্যথা বা ভারি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। সময়মতো প্রতিরোধ না করলে এই সাধারণ চর্বি পরবর্তী সময় লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, এমনকি লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সুসংবাদ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাসে আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন অতিরিক্ত শর্করা, মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড পুরোপুরি বর্জন করুন। পাতে রাখুন প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পরীক্ষা যেমন লিভার আলট্রাসনোগ্রাম ও এনজাইম টেস্টের মাধ্যমে পেটের ভেতরের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন। লিভার সুস্থ রাখতে আজই সচেতন হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনার লিভারকে রাখুন চর্বিমুক্ত, নিরাপদ ও পূর্ণ সুস্থ।