চোটে দুই মাসের জন্য ছিটকে গেলেন নেইমার 

ফুটবল মাঠে নেইমার জুনিয়রের জাদুকরী ড্রিবলিং আর চোটের থাবা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভাগ্যের ইনজুরি।

সান্তোসে ফেরার পর থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত মিলছিল না তার, এর মধ্যেই কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলতে নেমে ফের চোটের শিকার হন তিনি। শুরুটা তা গুরুতর মনে না হলেও ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি জানিয়েছে, আরও একবার নেইমারকে গুনতে হচ্ছে লম্বা সময়ের বিরতি। 

ডান উরুর পেশিতে আঘাত পাওয়ায় এবার প্রায় দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে এই ফরোয়ার্ডকে, যা রেলিগেশনের লড়াইয়ে থাকা সান্তোস শিবিরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

পালমেইরাসের বিপক্ষে কোপা দো ব্রাজিলের সেই ম্যাচ চলাকালীন প্রথম হাফেই উরুতে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। যার ফলে বাধ্য হয়েই তাকে বিরতির সময়ে তুলে নেন কোচ। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনের সূত্রমতে, স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সান্তোস ক্লাব নিশ্চিত করে যে, তার ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে ‘টাইপ ২বি’ মাত্রার ইনজুরি ধরা পড়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। অতীতে চোটের কবলে পড়ে নেইমারকে কখনো নির্ধারিত সময়ের আগে মাঠে ফিরতে দেখা যায়নি, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সময় বা তারচেয়ে বেশি সময় কাটাতে হয়েছে পুনর্বাসনে। ফলে তাড়াহুড়ো না করে তাকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ক্লাবটি।

পালমেইরাসের বিপক্ষে সেই ম্যাচ শেষে ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা ঝেড়েছিলেন নেইমার। স্টেডিয়ামের পিচের বেহাল দশা নিয়ে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের পিচ কিপারকে অভিনন্দন জানাতে চাই। গতকাল ভিলার পিচটি এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল, ম্যাচের আগের দিন মাটি আলগা করায় পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল। অবিশ্বাস্য! প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি আমাদের মাঠের সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে। তার ওপর অসম পিচের কারণে স্প্রিন্ট ও ব্রেকিংয়ের সময় আমাদের অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করতে হয়েছে, অবাক হওয়ার কিছু নেই যে প্রথমার্ধেই তিন খেলোয়াড় ব্যথা অনুভব করেছে।’

তাই শুধু নেইমার একাই নন, পালমেইরাসের বিপক্ষে ওই ম্যাচে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সান্তোসের পুরো স্কোয়াড। নেইমারের পাশাপাশি দলের রক্ষণভাগের ভরসা ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো ডান গোড়ালি মচকে যাওয়ায় এবং ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়াল বাম উরুর পেছনের অংশে ‘বাইসেপস ফেমোরিস’ পেশিতে টিয়ার নিয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন।

তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় একসঙ্গে ইনজুরিতে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে সান্তোস ম্যানেজমেন্ট। আগামী রবিবার ব্রাসিলেইরাও চ্যাম্পিয়নশিপে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে সান্তোসকে।