আইনের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ ও সংকট

বিশ্বায়নের কথিত উন্নয়ন পরিম-লে দৃশ্যমান অবকাঠামো ও জীবিকার কৌশল অবলম্বন অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করলেও টেকসই জীবনমান প্রতিষ্ঠায় এর প্রভাব কতটুকু অর্থবহ; তা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সংস্কৃতির অসম অগ্রগতির দোলাচলে বস্তুগত সংস্কৃতির পর্যাপ্ত প্রসারমানতায় অবস্তুগত সংস্কৃতি তথা ঐতিহ্য-কৃষ্টি-মূল্যবোধ-সততা-নৈতিকতা-মানবিকতা ইত্যাদির পরিপুষ্টতা অর্জনে বিশ্ব পিছিয়ে পড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিত্যনতুন শোষণ-শাসন প্রক্রিয়া, বৈষম্যের দুর্ভেদ্য প্রাচীর, ধনী-দরিদ্র্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনাধিকার ক্ষমতার প্রয়োগ-বিধিনিষেধের বিভাজন সর্বত্রই উপনিবেশ-সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের অনাকাক্সিক্ষত রূপ পরিগ্রহ করে চলছে। রাষ্ট্র-জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানামুখী দূরত্ব কমিয়ে ধরিত্রীকে ছোট-কাছাকাছি নিয়ে আসার পরিকল্পনা যেন ভেস্তে যেতে বসছে। পক্ষান্তরে তথ্যপ্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি সামাজিক সুফল ভোগের পরিবর্তে কুফলের হীন অভিপ্রায়ে হচ্ছে পর্যুদস্ত। প্রযুক্তির বিস্তার মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি দুর্বিষহ করে তুলেছে এর অপব্যবহার। যথার্থ সতর্কতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রকৃতঅর্থে গুরুত্ব না পেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ভবিষ্যত অন্ধকারের তলানীতে গিয়ে পৌঁছবে, নিঃসন্দেহে তা বলা যায়।

বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ঘটনা এখন আকাশচুম্বী। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এ ধরনের হামলার সংখ্যা ২০১৫ সালের ২ লাখ ৮৮ হাজার ১২টি থেকে ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫৯৭। ২০২৫ সালে আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থায় হামলার ফলে আর্থিক ক্ষতি ছিল ২ হাজার ৮০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর যুক্তরাজ্যেও সাইবার হামলা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে হ্যাকাররা কোনো কোম্পানির সিস্টেমে ঢুকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে বা পুরো সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজকর্ম অচল করে দেয়। পরবর্তী সময় অপরাধীরা সেই তথ্য ফেরত দিতে বা সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে মুক্তিপণ বা মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অনেক সংখ্যক সাইবার হামলাকারী তাদের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য আরও ভয়ংকর পথ বেছে নিচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে সরাসরি শারীরিক হুমকির ঘটনা। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আমেরিকায় এ ধরনের শারীরিক হুমকির ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। অতি সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার সাইবার হামলার নতুন ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস।

দেশে বিরাজিত অগ্রগণ্য সংকট হিসেবে সাইবার অপরাধ বা বিপুল প্রচলিত সাইবার ক্রাইম দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুঃসহ পরিবেশ নির্মাণে প্রচ- শক্তিমান। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য চুরি-বিকৃতি, মানি লন্ডারিং, জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইল ইত্যাদি কর্মকা-গুলোকে সাধারণত সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধই সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। সাইবার অপরাধের একবারে প্রথম পর্যায়ে রয়েছে হ্যাকিং। কম্পিউটার, মোবাইল বা অন্য যেকোনো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স ওয়েবসাইটের তথ্য বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন পর্ণসাইটে ভিজিটকারী ব্যক্তির ডিভাইস ক্ষতিকর কম্পিউটার ভাইরাস দিয়ে যেকোনো সময় হ্যাকাররা হ্যাক করে  ফেলে। মাদক থেকে শুরু করে নারী-শিশু পাচার সবই এখন ইন্টারনেট প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হচ্ছে। বিশ^ব্যাপী মাদক ব্যবসায়ীরা অতি গোপনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় করে যাচ্ছে। নিকট অতীতে প্রকাশিত গণমাধ্যম তথ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাইবার অপরাধ সম্পর্কে জানা যায়। অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে তথ্য জালিয়াতি করে জাল সনদ তৈরি, ব্ল্যাকমেল করে ধর্ষণ এবং এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, ফেসবুক- হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার-ইনস্টাগ্রাম-স্কাইপে ভুয়া আইডি খুলে জালিয়াতি ও প্রতারণা, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার, আইডি হ্যাক, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি-প্রতারণা, অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁস ও জুয়া খেলা ইত্যাদি। আইন করাসহ নানা পদক্ষেপে এমন অপরাধ না কমার পরিবর্তে দিন দিন ভয়ানকরূপ ধারণ করছে। সাইবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের হেল্পডেস্ক ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) সাইবার অপরাধ নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ জমা পড়ছে।

বর্তমানে সাইবার অপরাধের অন্যতম বৃহৎ অনুষঙ্গ হচ্ছে নারী নির্যাতন। মেয়েদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য-যৌন দৃশ্য প্রকাশের হুমকি বা মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলার মতো সাইবার অপরাধ এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রযুক্তির অপব্যবহারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে মেয়েদের ফেস ব্যবহার করে কৃত্রিম যৌন দৃশ তৈরি করে ইন্টারনেটে প্রকাশের ফলে লাখ লাখ মেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আত্মহননে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা ফোন কল-মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে লাখ টাকার লটারির লোভ দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অদক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই সচরাচর সাইবার অপরাধের শিকারে বিপর্যস্ত।

১২ মে ২০২৬ গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএর সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের প্রায় ৮৯ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার হলেও অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরাই। এতে আরও বলা হয়, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক কলঙ্গ ও বৈষম্যের ভয়ে ঘটনার বিষয়ে কোনো অভিযোগ না করার ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে অনলাইন ব্ল্যাকমেল, পরিচয় চুরি, ছবি বিকৃতিকরণ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে সাইবারস্টকিং, সাইবার বুলিং, ডক্সিং, হ্যাকিং, অনলাইন হয়রানি, ছবি-ভিত্তিক নির্যাতন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য যেন অনলাইনে সাধারণরূপে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে ক্ষতিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু অপসারণের জন্য কমিশন ১৩ হাজার ২৩টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১২ হাজারের বেশি কন্টেন্ট অপসারণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। সমসূত্রে প্রকাশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত ঘটনায় ৬০ হাজার ৮০৮ জন নারী সহায়তা চেয়েছেন। তাদের মধ্যে ডক্সিংয়ের শিকার হয়েছেন ৪১ শতাংশ। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অভিযোগ করেছেন ১৮ শতাংশ। তা ছাড়া ব্ল্যাকমেল, ছদ্মবেশ ধারণ এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন যথাক্রমে ১৭, ৯ এবং ৮ শতাংশ নারী। একই সঙ্গে বেড়েছে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রবণতাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন সহিংসতা শুধু ডিজিটাল হয়রানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর বিরূপ প্রভাব বাড়ছে, যা খুব উৎকণ্ঠার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দীর্ঘকাল ধরে সাইবার আইনের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ দেশে বিপুল আলোচিত-সমালোচিত। বিগত সময়ে সাইবার নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নানামুখী দমন-নিপীড়ন জোরালোভাবে উচ্চকিত। গণমাধ্যমসহ সুশীল ও বিবেকবান জনগোষ্ঠীর কাছে এই আইনের নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্কার অতি প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। ব্যাপক গুঞ্জনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার আইনের নিরাপত্তার প্রতি মনোযোগ আকর্ষিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন জটিলতা পরিহার করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানে এই আইনের সংস্কার অতীব জরুরি। পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। ৭ নভেম্বর ২০২৪ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ-২০২৪-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও তিন মাসের ব্যবধানে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধন করতে যাচ্ছে। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও। সংশোধিত আইনে নতুন ধারা (২৬/ক)তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার পরিসরে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদন্ড ভোগ করবেন বা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

গণতন্ত্র-মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশেষ করে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রাসঙ্গিকতা অনিবার্য। কার্যকর প্রগতিশীল সমাজ-উন্নয়নে বিভিন্ন অন্তরায়-গুজবসন্ত্রাস-প্রচারণা-প্রতারণামূলক সংবাদ পরিবেশন-মিডিয়া ট্রায়াল ইত্যাদি কদর্য অপরাধ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য অবশ্যই এই আইন যুগান্তকারী মাইলফলক। একই সঙ্গে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যাতে কোনো হীনস্বার্থে-কাউকে ফাঁসানোর জন্য হয়রানিমূলক পন্থা অবলম্বন-দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আইনের অসংলগ্ন প্রয়োগ ও অস্বাভাবিক-অসংযত-অসংগত অপ্রয়োগে আইন যেন কোনোভাবে কলুষিত না হয়। সচেতন মহলের ধারণা, প্রায়োগিক কর্মকৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে ন্যূনতম অবজ্ঞা অদূর ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধের গতিপ্রবাহ ভয়ংকররূপে আবির্ভূত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।  

লেখক : শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী

chowiu@yahoo.com