ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা, বিক্ষোভ ঘিরে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি ও পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে ইবি পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে সংঘাত এড়াতে এবং সহাবস্থান নিশ্চিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টরিয়াল বডি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। ক্যাম্পাসের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদলের এক নেতার হাতে শিবিরের এক নেতা লাঞ্ছিত (থাপ্পড়) হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকে ছাত্রদল এবং জিয়া মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছাত্রশিবির অবস্থান নেয়। পরবর্তীকালে বিকেলে প্রধান ফটক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকেল ৩টায় উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও সংলগ্ন এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয় এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যার ফলে ক্যাম্পাসে উপস্থিতি কমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অতি দ্রুত ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জোর দাবি জানান তারা।

এদিকে উদ্ভূত পরিবেশ প্রশমিত করতে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করে নিয়েছেন। ক্যাম্পাসের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা আজ পুনরায় বসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরির যেকোনো চেষ্টা রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন নিরাপদ ক্যাম্পাসের পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করে জানান, গত ৫ তারিখের অপ্রীতিকর ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ সচেতন থাকবেন। শিক্ষার্থীরা যাতে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে পড়াশোনা চালাতে পারে, সেই পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদল প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে জানান, ৫ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর যে আতঙ্কের আবাহ তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা একদম স্বাভাবিক। ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর সমস্যার সমাধান টানা হয়েছে। বর্তমানে ক্লাস, পরীক্ষাসহ যাবতীয় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ স্বাভাবিক গতিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইবি পুলিশ সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।