সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে চিরবিদায় নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সংগীতপ্রেমীরা। প্রয়াণের পর এটিই তার প্রথম জন্মবার্ষিকী, আর এই বিশেষ দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশ পাচ্ছে চলচ্চিত্রে গাওয়া তার জীবনের শেষ গান।
হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘ওম কা হরি’ ড্রামা-কমেডি সিনেমার ‘এ মেরি জিন্দেগি, তু ছুপি হ্যায় কাঁহা’ শিরোনামের গানটি আজ মুক্তি পাচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে, ৯০ বছর বয়সে গানটি রেকর্ড করেছিলেন আশা ভোঁসলে। জীবন ও ভালোবাসার গভীর আবেগে ভরা এই গানটি দিয়েই শেষ হয় তার দীর্ঘ ছয় দশকের রেকর্ড সৃষ্টিকারী সংগীতযাত্রা। বাবা-ছেলের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রে রঘুবীর যাদব, অংশুমান ঝা, সোনি রাজদান ও আয়েশা কাপুর অভিনয় করেছেন। নির্মাতারা জানান, জন্মদিনে গানটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য কালজয়ী এই শিল্পীর চিরন্তন কণ্ঠকে শ্রদ্ধা জানানো।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হন। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এর মাধ্যমে তার গান গাওয়ার সূচনা। ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমা দিয়ে হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন এবং পরের বছর ‘রাত কি রানি’ ছবিতে প্রথম একক গান গান। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে মেজাজি আধুনিক ও ওয়েস্টার্ন ধাঁচের গান সবখানেই তিনি ছিলেন অনন্য। ‘ছোটাসা বালমা’ কিংবা ‘মেরা মন দর্পণ’-এর মতো রাগপ্রধান গানের পাশাপাশি ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো মেলোডি ও ক্লাসিক গান দিয়ে শ্রোতাদের মাত করে রেখেছেন। বাংলা সংগীতেও তার প্রভাব ছিল অসামান্য। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের যুগে ভারতীয় বাংলা সিনেমায় রাজত্ব করার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতেও তিনি নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এ ছাড়া গুলাম আলির সঙ্গে ‘মিরাজ-ইয়ে-গজল’ কিংবা হরিহরণের সঙ্গে ‘অবসর-ইয়ে-গজল’ অ্যালবামগুলো তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার গিনেস রেকর্ডধারী এই শিল্পী পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণের মতো ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। তিনি শারীরিকভাবে চলে গেলেও তার অমর সুর কোটি ভক্তের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে থেকে যাবে।