আলোচনায় এসেছে মুশফিক আর ফারহান ও সামিরা খান মাহির একক নাটক ‘সীমানা’। জি এন্টারটেইনমেন্টের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তির দুই সপ্তাহ না হতেই ৬০ লাখের বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন নাটকটি। মো. জিয়াউল হক রাজুর পরিচালনায় নির্মিত এই ফিকশনটি সমসাময়িক করপোরেট জীবনের যান্ত্রিকতা, পেশাগত প্রতিযোগিতা এবং সম্পর্কের টানাপড়েন বেশ পরিণতভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আসাদুজ্জামান সরকার ও মো. জিয়াউল হক রাজু।
আধুনিক কর্মক্ষেত্রের চেনা আবহ, শৃঙ্খলার চাপ, ডেডলাইনের তাড়া এবং পদোন্নতির দৌড়। এমন একটি বাস্তব প্রেক্ষাপটে জাহেদ নামক এক দক্ষ কিন্তু খানিকটা খামখেয়ালি তরুণ ও তার চারপাশের মানুষদের সম্পর্কের টানাপড়েন উন্মোচিত হয়। কাজের জায়গায় ব্যক্তিত্ব রক্ষা করার লড়াই এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় নিজেকে প্রকাশ করার দ্বিমুখী মানসিক অবস্থা নাটকটিকে সাধারণ রোমান্টিক গল্পের চেয়ে আলাদা করেছে। পেশাগত জীবনের শৃঙ্খলা আর হৃদয়ের অনুভূতির মাঝখানে যে ‘সীমানা’ তৈরি হয়, সেটিই এই নাটকের গল্প।
প্রধান চরিত্রে মুশফিক আর ফারহান এবং সামিরা খান মাহির অভিনয় ছিল প্রশংসনীয়। ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণের পর ফারহান এবার এক করপোরেট তরুণের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও চাপ অত্যন্ত স্বাভাবিক অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার বিপরীতে সামিরা খান মাহি নিজের চরিত্রটি পরিপক্বভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দুজনের মধ্যকার দৃশ্যগুলোতে নীরবতা এবং সংলাপের ভারসাম্য দর্শকদের আবেগ স্পর্শ করে। পাশাপাশি তনুশ্রী কারকুন ও মিলন ভট্টাচার্যসহ পুরো কলাকুশলী দল গল্পকে গতিশীল রাখতে যথার্থ সহযোগিতা করেছেন।
নির্মাণের দিক থেকে দৃশ্যায়নের নান্দনিকতা ও কালার গ্রেডিং করপোরেট জীবনের কৃত্রিম পরিবেশকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নাটকের মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক নাটকের ভিড়ে ‘সীমানা’ তরুণ প্রজন্মের জীবনবোধকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার এক সফল প্রচেষ্টা।