যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ঐতিহাসিক সোলজার ফিল্ডে তখন উপচে পড়া ভিড়। রেকর্ড ৬৩ হাজার ৯৪ জন দর্শকের উপস্থিতিতে এক ছাদের নিচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের সোনালী যুগের দুই মহাতারকা। মেজর লিগ সকারে লিওনেল মেসি ও রবার্ট লেভানডফস্কির এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ দেখতে স্টেডিয়াম তাই রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ইউরোপে।
লেভানডফস্কির দারুণ এক গোলে শিকাগো ফায়ার এগিয়ে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই তারকাকে।
শিকাগোর ঘরের মাঠে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল চরম উত্তেজনায় ভরপুর। বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা লেভানডফস্কি ম্যাচের শুরুতেই নিজের জাত চেনান। মাত্র দশ মিনিটের মাথায় দারুণ এক আকস্মিক ও নান্দনিক গোলে শিকাগোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার। এমএলএসে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল তার ষষ্ঠ গোল।
এদিকে রেকর্ড দর্শক সমর্থনের সামনে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় মায়ামি। প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার জন্য বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও স্বাগতিক গোলকিপার ক্রিস ব্র্যাডির অতিমানবিক সব সেভের কারণে গোলবঞ্চিত থাকে মেসিরা। বিশেষ করে ১৬ মিনিটে জার্মেন বেরেতেরামের শটটি ব্র্যাডি যেভাবে ফিরিয়ে দেন, তা ছিল এককথায় অসাধারণ।
প্রথমার্ধের এমন হতাশাজনক চিত্র নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের গোলকিপারের প্রশংসায় মায়ামি কোচ কিলি গঞ্জালেজ বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের আক্রমণে কোনো সমস্যা ছিল না। আমার কাছে আজকের ম্যাচের আসল নায়ক তাদের গোলকিপার। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু গোলকিপার তার কাজটা দারুণভাবে করেছে। ছেলেরা দুর্দান্ত খেলেছে, কিন্তু আমরা কেবল প্রাপ্য জয়টি পাইনি।’
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়াতে মোটেও সময় নেয়নি মায়ামি। বিরতির ঠিক পরপরই ম্যাচের ৪৮ মিনিটে নিজের জাদু দেখান ফুটবলের জাদুকর মেসি। তার নেওয়া নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকে বক্সে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এই অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৩টিতে, যা বর্তমানে এমএলএসের সর্বোচ্চ। আগের ম্যাচেও ঠিক একইভাবে মেসির অ্যাসিস্টে গোল করেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার।
ম্যাচে সমতা ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মায়ামি। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণ কাঁপিয়ে দিলেও শিকাগোর জমাট রক্ষণভাগ ও গোলকিপার ব্র্যাডির দৃঢ়তায় আর কোনো গোলের দেখা পায়নি তারা। এই ড্রয়ের ফলে ২৪ ম্যাচে ইন্টার মায়ামির পয়েন্ট হলো ৪৪। সাপোর্টার্স শিল্ডের দৌড়ে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সাথে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়ার হতাশা নিয়ে শেষ হলো সোলজার ফিল্ডের এই হাইভোল্টেজ লড়াই।