ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের মা মারা গেছেন

কারাবন্দী সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাহ করেন।

৮ সেপ্টেম্বর নিজেই এই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন চিন্ময় ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে ছিলেন। এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যান্সার শনাক্ত হয়। তবে হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার।

এদিকে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করে তার পরিবার। চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এ আবেদন করেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, কারও অসুস্থতার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান নেই। 

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী আলিফ হত্যাসহ চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চলছে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।