সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ের দৌড়ে বড় এক ধাক্কা খেয়েছে ইন্টার মায়ামি। শনিবার রাতে এমএলএসের শীর্ষ দল ন্যাশভিলের বিপক্ষে ইনজুরি টাইমে গোল হজম করে ২-২-এ ড্র করে ফ্লোরিডার দলটি। এই ড্রয়ের ফলে ন্যাশভিলের সঙ্গে মায়ামির পয়েন্টের ব্যবধান ৯-ই রয়ে গেল। ন্যাশভিলের পয়েন্ট ২৫ ম্যাচে ৫৪, মায়ামির ৪৫। মাত্র ৯ ম্যাচ বাকি থাকতে এই ব্যবধান ঘুচানো মায়ামির জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচটিতে দলের জয় হাতছাড়া হলেও লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স ছিল এককথায় উজ্জ্বল। ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের জন্য একমাত্র এমএলএস মনোনীত এই তারকা ডি বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক কার্লিং শটে চলতি মৌসুমের ১৯তম গোলটি করেন। ম্যাচে তিনি মোট আটটি শট নেন। তবে মেসির এমন একক নৈপুণ্য সত্ত্বেও দল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি, যা সাম্প্রতিক সময়ে মায়ামির চিরাচরিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। ন্যাশভিলের পক্ষে সাম সারিজ ম্যাচের চতুর্থ ও ৯১তম মিনিটে জোড়া গোল করে দলকে পরাজয় থেকে বাঁচান।
ন্যাশভিলের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্স সবসময়ই দুর্দান্ত। দলটির বিপক্ষে মাত্র ১৪ ম্যাচে ১৭ গোল করেছেন তিনি। তবে দলগতভাবে ন্যাশভিলের কাছে মায়ামি সবসময়ই পিছিয়ে থাকে। চলতি মৌসুমেও ন্যাশভিল প্রমাণ করেছে যে তারা টেবিলের সেরা দল। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গিলের্মো হোয়োস ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসা করে বলেন, ‘ঈশ্বর তাকে এই উপহার দিয়েছেন। তিনি একজন তুলনাহীন খেলোয়াড়।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দলের বাকি তারকারা কি আদৌ এমন বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখেন?
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে মায়ামির অন্দরে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। গত ৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছে দলটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন কোচ কিলিয়ান গঞ্জালেজের ওয়ার্ক পারমিটের জটিলতা, যার কারণে ডাগআউটে দাঁড়াতে পারছেন না তিনি। মাঠের খেলায়ও তার প্রভাব স্পষ্ট; মেজাজ হারিয়ে ফাউল করা, ড্রয়ের ম্যাচে মারামারিতে জড়ানো কিংবা শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সে মনোযোগ হারানোর মতো ঘটনাগুলো দলের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে।