লজ্জার হারের পর বাটলারের মুখে সেই ‘মাঠের বাইরের’ অজুহাত

এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এমন বড় পরাজয়ের পর দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। তবে দায় স্বীকারের পাশাপাশি আবারও সামনে এনেছেন দলের মাঠের বাইরের কিছু সমস্যার কথা—যে অভিযোগ তিনি এর আগেও দলের ব্যর্থতার পর করেছেন।

জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসে সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রতিপক্ষের হাতে। প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর আরও তিন গোল করলে ১০-০ ব্যবধানের হার নিশ্চিত হয়।
ম্যাচের শুরুতে একাদশে ছিলেন না দলের অভিজ্ঞ কয়েকজন ফুটবলার। ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার ও শিউলি আজিমের মতো পরিচিত মুখদের বাইরে রেখে তরুণদের নিয়ে একাদশ সাজান বাটলার। পরে অভিজ্ঞরা মাঠে নামলেও ম্যাচের গতিপথ বদলানো সম্ভব হয়নি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। কারণ আজকের এই ফলাফলের পুরো দায় আমি নিচ্ছি, কারণ তারা আমারই খেলোয়াড়।’ তবে এরপরই দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাটলারের ভাষ্য, দলে এখন অভিজ্ঞ ও তরুণ, দুটি আলাদা গ্রুপ রয়েছে। পাশাপাশি মাঠের বাইরের কিছু বিষয় তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘আমাদের এখানে দুটি ভিন্ন গ্রুপ রয়েছে, একটি বয়স্ক বা অভিজ্ঞদের গ্রুপ, অন্যটি তরুণদের গ্রুপ। আর মাঠের বাইরের বিষয়গুলো নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই’, বলে তিনি জানান, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন করেছেন। তবে অন্য কিছু মানুষের কর্মকান্ড নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর। গভীর রাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা কিংবা কনফারেন্স কলে যুক্ত করার মতো বিষয়কে দল গঠনের জন্য সহায়ক মনে করেন না তিনি।

তবে ১০ গোলের পর বাটলারের এমন বক্তব্যে পুরোনো বিতর্কই আবার সামনে এসেছে। দলের ব্যর্থতার পর এর আগেও মাঠের বাইরের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলেছেন এই ইংলিশ কোচ। এবারও বড় পরাজয়ের পর একই ধরনের অভিযোগ করলেন তিনি।

বাংলাদেশের সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। সেই ম্যাচ নিয়েও খুব বেশি আশাবাদী নন বাটলার। তাঁর মতে, আজকের ম্যাচের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ। তাই দ্রুত দল পুনর্গঠন ও কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পক্ষ থেকে কোনো ম্যাচ রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। দলের সঙ্গে থাকা মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে শুধু একাদশ প্রকাশ করেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে সাত গোল এবং শেষ পর্যন্ত ১০-০ ব্যবধানের পরাজয়—কোনোটিরই তাৎক্ষণিক আপডেট দেওয়া হয়নি। ম্যাচের কোনো ছবিও সরবরাহ করা হয়নি।

দেশের বাইরে জাতীয় দল খেললে সাংবাদিকদের তথ্যের অন্যতম উৎস থাকে বাফুফের মিডিয়া টিম। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তথ্য ও ছবি সরবরাহে এমন নীরবতা নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।