প্রথম বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা পাওয়া বাংলাদেশ গত ৬ মার্চ সিডনিতে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল। ৬ মাস পর আজ এশিয়ান গেমসের ফুটবলে আবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবলের এই পরাশক্তির সঙ্গে। ৬ মাসের ব্যবধানে কোরিয়ার গোল বেড়েছে ৫টি। অর্থাৎ এবার ১০-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। নারী ফুটবলে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ড। এর আগে ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৯-০ গোল ছিল সবচেয়ে বড় পরাজয়।
ওসাকার ইয়ানমার স্টেডিয়ামে আজ এশিয়ান গেমসে তিনবারের সোনাজয়ী দলটির আক্রমণের সামনে পুরো ম্যাচেই অসহায় দেখিয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই জন রয়োং জংয়ের গোলে এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন একই ফরোয়ার্ড। এরপর একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে ফেলে উত্তর কোরিয়া। প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগই খুব কম পেয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ সামলাতে গিয়ে বারবার ভুল করেছে বাংলাদেশের রক্ষণ। প্রথমার্ধেই আরও পাঁচবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় এশিয়ার পরাশক্তিরা। ফলে বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তর কোরিয়ার গোলের ক্ষুধা কমেনি। ৫১ মিনিটে রাই সং এবং ৬০ মিনিটে জং জুম গোল করলে ব্যবধান আরও বাড়ে। শেষ দিকে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি কয়েকটি ভালো সেভ করে দলকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ৮৫ মিনিটে কুম জংয়ের গোলের পর হান জিন হংয়ের শটও দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রতিহত করেন মিলি। তবে শেষ পর্যন্ত হান জিন হংয়ের কোনাকুণি শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। তাতেই বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান দুই অঙ্কে পৌঁছে যায়।
ম্যাচের আগের দিনই বাটলার জানিয়েছিলেন, ফলাফলকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দিতে চান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী একাদশে জায়গা পান মোমিতা খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস ও সুরভী আফরিনদের মতো তরুণরা। অন্যদিকে নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার শুরু থেকে মাঠে ছিলেন না।
তরুণদের বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত এত বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করায় কোচের কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে ঋতুপর্ণা ও মনিকার মতো অভিজ্ঞরা মাঠে নামলেও তখন ম্যাচ অনেকটাই হাতের বাইরে চলে গেছে।
উত্তর কোরিয়ার পক্ষে জোড়া গোল করেন জোন রিয়ং জং (৫ ও ১০ মিনিট), চে উন সং (১৮ ও ৩৫ মিনিট) এবং কিম কিওং সং (৪০ ও ৪৩ মিনিট)। এ ছাড়া বাকি চারটি গোল আসে হওয়াং ইউ সং (১২ মিনিট), রি সং আ (৫১ মিনিট), জং কুম (৬০ মিনিট) এবং হান জিন সংয়ের (৯০ মিনিট)।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে অবশ্য আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর খেলবে মিয়ানমারের বিপক্ষে। গ্রুপের সেরা দুই দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া আরও দুটি দলও পাবে শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ।
।
হোয়াইওয়াশের পর আইসিসি থেকে বড় শাস্তি বাবরদের