চার শ্রেণির মানুষ ইসলামের জন্য ক্ষতিকর

জ্ঞান ও আমলের সমন্বিত জীবনব্যবস্থা ইসলাম। সঠিক জ্ঞান মানুষকে সত্যের পথ দেখায়। জ্ঞানহীন আমল যেমন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, তেমনি আমলহীন জ্ঞানও সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার এমন মানুষও আছে, যারা নিজেরা জ্ঞান অর্জন করে না, আমলও করে না, বরং অন্যদের জ্ঞানার্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের মানুষের ভূমিকা ইসলামের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রখ্যাত সুফি সাধক মুহাম্মদ ইবনুল ফজল (রহ.) বলেছেন, চার শ্রেণির মানুষের হাতে ইসলামের ক্ষতি হয়। প্রথমত, যারা জানে, কিন্তু তা অনুযায়ী আমল করে না। দ্বিতীয়ত, যারা না জেনেই আমল করে। তৃতীয়ত, যাদের জ্ঞানও নেই, আমলও নেই। চতুর্থত, যারা মানুষকে জ্ঞান অর্জন থেকে বিরত রাখে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিবরণী দেন ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)। তা উল্লেখ করা হলো।

প্রথম শ্রেণি : যাদের জ্ঞান আছে, আমল নেই। সাধারণ মানুষের জন্য তারা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ সাধারণ মানুষ তাদের দেখে নিজেদের নানা ত্রুটি ও অন্যায়ের পক্ষে অজুহাত খুঁজে পায়।

দ্বিতীয় শ্রেণি : অজ্ঞ ইবাদতকারী। তাদের ইবাদত ও বাহ্যিক ধার্মিকতা দেখে মানুষ তাদের সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করে। ফলে তাদের অজ্ঞতা সত্ত্বেও মানুষ তাদের অনুসরণ করে।

পূর্বসূরিদের কেউ কেউ এ দুই শ্রেণি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, পাপাচারী আলেম ও অজ্ঞ ইবাদতকারীর ফেতনা থেকে সাবধান। কারণ এ দুজনের ফেতনা প্রত্যেক ফেতনাগ্রস্ত মানুষের জন্যই বিপজ্জনক।

মানুষ সাধারণত আলেম ও ইবাদতকারীদের অনুসরণ করে। তাই আলেমরা যখন পাপাচারী হয় এবং ইবাদতকারীরা অজ্ঞ হয়, তখন তাদের কারণে বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির মানুষের ওপর বিপদ নেমে আসে এবং ফেতনা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

তৃতীয় শ্রেণি : যাদের জ্ঞানও নেই, আমলও নেই। তারা চরতে থাকা পশুর মতো।

চতুর্থ শ্রেণি : চতুর্থ শ্রেণি হলো পৃথিবীতে ইবলিসের প্রতিনিধির মতো। তারা মানুষকে জ্ঞান অর্জন ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভ থেকে নিরুৎসাহিত করে। তারা মানুষের জন্য জিন-শয়তানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। কারণ তারা মানুষের হৃদয় ও আল্লাহর হেদায়াতের পথের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই চার শ্রেণির সবাই ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে এবং ধ্বংসের পথেই চলেছে।

ড. ইউসুফ আল-কারযাভির ‘আল-হায়াতুর রব্বানিয়্যাতু ওয়াল ইলম’ থেকে ভাষান্তর করেছেন মুহসিনা জামান