মানুষের হৃদয়ে কোরআনের প্রভাব

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাব সৃষ্টিকারী গ্রন্থ পবিত্র কোরআন। কোরআনের একটি আয়াতও একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দেয়। অথচ কারও সামনে শত শত আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, কিন্তু তার হৃদয়ে তেমন আলোড়ন সৃষ্টি হয় না। একই কোরআন, একই আয়াত, একই রবের বাণী। তবু মানুষের ওপর এর প্রভাব এক রকম নয়। কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই বুঝতে হবে, কোরআন বদলায়নি। বদলেছে মানুষের হৃদয়ের অবস্থা। আল্লাহর কালাম আজও সেই কালাম, যা শুনে চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে, হৃদয় জেগে উঠেছে এবং যে কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ করে মরুভূমির কঠিন পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো মানবজাতির শ্রেষ্ঠ প্রজন্মে পরিণত হয়েছে।

হৃদয়ের প্রস্তুতি জরুরি : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি যদি এই কোরআন পাহাড়ের ওপর নাজিল করতাম, তবে তুমি অবশ্যই তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে।’ (সুরা হাশর ২১)

কোরআনের শক্তি কমেনি। মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত হৃদয় নিয়ে আল্লাহর বাণী গ্রহণ করছি। যে ব্যক্তি কোরআন পড়ার সময় অনুভব করে যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্যও একটি বার্তা, তার তেলাওয়াত তখন নিছক অভ্যাসে সীমাবদ্ধ থাকে না।

শুধু পড়া নয়, ভাবাও প্রয়োজন : কোরআন নাজিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এর আয়াত নিয়ে চিন্তা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।’ (সুরা সাদ ২৯)

কোরআন পড়ার সময় নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন, এই আয়াতটি আমাকে কী শিক্ষা দিচ্ছে? আমার জীবনে কী পরিবর্তন আনা উচিত? আর তেলাওয়াতের সময় ধীরে পড়া, অর্থ বোঝা এবং হৃদয়কে উপস্থিত রাখা জরুরি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত