ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু: ‘আসল’ দুই আসামি গ্রেপ্তারের দাবি ডিবির

রাজধানী সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অটোরিকশা থেকে ব্যাগ টেনে ফেলে দিয়ে বগুড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনকে হত্যার ঘটনায় মূল জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— খোকন ও রাজীব মাতব্বর। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির দাবি, ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে রনজিলারদ ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেন।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ও দিয়াবাড়ী থেকে নিহতের ব্যাগ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, চিকিৎসাপত্রসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ২৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষিকার স্বামীও খোকনকে শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি।

এর আগে, ৩০ আগস্ট তৎকালীন র‍্যাব-২ এ ঘটনায় রাকিব, পনি ও সেড্রিক নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠায়। র‍্যাবের দাবি ছিল, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছিল।

তবে ডিবি প্রধান জানান, সিসিটিভি ফুটেজের মোটরসাইকেলের মডেল ও রঙের সঙ্গে র‍্যাবের উদ্ধার করা বাইকের মিল ছিল না। দুটি ভিন্ন অপরাধী চক্র তেজতুরীপাড়া ও পশ্চিম মনিপুর এলাকায় পৃথকভাবে সক্রিয়। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আগে গ্রেপ্তার তিনজনের এ হত্যায় কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের অবহতির সুপারিশ করা হবে।

বর্তমান এসআরবি (সাবেক র‍্যাব) কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নিফাজ রহমান জানান, র‍্যাব সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করেছিল এবং ডিবির হাতে ‘আসল আসামি’ গ্রেপ্তারে পূর্বের তথ্যগুলো সহায়কের ভূমিকা রেখেছে।

গত ২৯ আগস্ট সকালে বগুড়া থেকে চিকিৎসা নিতে ঢাকায় এসে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হন শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন।