পাঞ্জাবি, শেরোয়ানিসহ তৈরি-পোশাক বিক্রয়কারী একটি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব (মূসক বা ভ্যাট) ফাঁকি পেয়েছে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জে-ক্রিয়েশন নামে ওই প্রতিষ্ঠানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযান চালায় রাজস্ব খাতের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এ সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য মুসক-১২.৩-এর মাধ্যমে সিপিইউসহ প্রতিষ্ঠানটির দলিলাদি জব্দ করা হয় এবং তাদের বিক্রয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর সিগারেট খাতে ভ্যাট ফাঁকির নয়া কৌশল সম্পর্কে জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের ভার্গো টোবাকো লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার একটি প্রিভেন্টিভ টিম এ অভিযান চালায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা-এর অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এনবিআর জানিয়েছে, গোয়েন্দা দল প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত দলিলাদি জব্দ করে এবং প্রাথমিক গণনায় অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বিপণন থেকে প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রক্ষিত দলিলাদি ঠিক রেখে অভিনব পদ্ধতিতে রাজস্ব ফাঁকির নতুন উপায় বের করে।
ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি টিম একযোগে সিগারেট কারখানা এবং কাছাকাছি আরেকটি গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলার পরেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে দেয়াল টপকে গোয়েন্দা দল ভেতবে ঢুকে দেখতে পায় সিগারেট উৎপাদন হচ্ছে। গোয়েন্দা দল কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে চেক করতে গিয়ে দেখে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি উপস্থাপন করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করেন।
এনবিআরের তথ্যমতে, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়েছে বলে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার নিশ্চিত করেন। গোয়েন্দা দল তাৎক্ষণিকভাবে ওই পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
পরে তল্লাশি চালিয়ে কারখানা এবং তৎসংলগ্ন গুদাম/আবাসিক ভবন থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা এবং খালি প্যাকেট পাওয়া যায়। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। মূসক গোয়েন্দার আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম ওই মোবাইল ফোনসমূহের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে। প্রাপ্ত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো রকম ভ্যাট চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল, যা তাদের মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।