নওগাঁয় প্রধান শিক্ষককে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

নওগাঁ সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও হেলমেট ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে নওগাঁ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

ভুক্তভোগী মো. আলমগীর আলম (৪৭) চুনিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর নওগাঁ সদর থানায় জিডিটি করেন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে স্কুলে বাইরের কিছু লোকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। আগের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এলাকার আবদুল মজিদ (৭৫)-এর বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে পিবিআই, নওগাঁ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

এরপরও অভিযুক্তরা তাকে, তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত রোববার স্কুল ছুটির পর মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে স্কুলের সামনে আবদুল মজিদসহ ৪-৫ জন প্রধান শিক্ষককে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় আঘাতটি হেলমেটে লাগে। এতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেল ও হেলমেট ভাঙচুর করে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।

তার চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জানান, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে স্কুলে বাইরের লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। তারা বিভিন্নভাবে স্কুলের শিক্ষকদের ক্ষতি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এসব উসকানিতেই এমন ঘটনা ঘটছে।

স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, ‘আমাদের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা আমরা কখনোই মেনে নেব না। আমরা চাই স্কুলে যেন কোনো ধরনের বাইরের লোক প্রবেশ না করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।’

হাবিবা নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘স্কুল চলাকালীন সময়ে বাইরের লোকজন প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। এরপর আবার আমাদের শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটার সঠিক বিচার করতে হবে।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’