বাড়ছে ডিমের দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারে বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে ডিমের দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বাড্ডা, রামপুরা, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন ধরেই ডিমের দাম একটু করে বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহখানেক আগে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকার মধ্যে, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়। তবে ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত বুধবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, কারসাজি করে ডিম ও মুগির দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে। গত দিনে ভোক্তা অধিদপ্তরে পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভোক্তা অধিদপ্তর একটি সভা করে। সেখানে এসব আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) প্রচার সম্পাদক ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে। তবে বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ডিমের দাম কমে যাওয়ায় একের পর এক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক জানান, পোলট্রি ফিডের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ফিডের দাম বেড়েছে। ডিসেম্বরে বাড়তি দামের ফিড বাজারে আসতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগি উভয়ের দামই বাড়তে পারে। এদিকে ঢাকার বাজারে এখনো খানিকটা চড়া বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়সের দাম কমে সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪০-৪৫ টাকায় এলেও এখন সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০-৬০ টাকার মধ্যে। শসা প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুনের দামও বেড়েছে। মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুন কিনতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে। কচুরমুখি ৫৫-৭০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৭০-১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পটোল ও চিচিঙ্গার দামও খানিকটা চড়া। এগুলো বাজারভেদে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি চড়া দাম বরবটির। পণ্যটি ১০০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালো মানের ঝিঙ্গা ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকার মধ্যে।

বাজারে এখন কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বাজারভেদে ১৪০-১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০-১২০ টাকার মধ্যে।