জনগণ রাস্তায় নেমেছে, আন্দোলন সফল হবেই: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায় করার জন্য দ্বিতীয় দফার লংমার্চ আজ মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শহীদ আবু সাঈদের জন্মভূমি রংপুরের উদ্দেশে বের হয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের আট দফা কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, জনগণের। জনগণ রাস্তায় নেমেছে, আন্দোলন সফল হবেই।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় বসেই জনগণকে অপমান করেছে, প্রতারণা করেছে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে। সরকার যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করত তাহলে আমাদের লংমার্চ করা লাগত না। সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা কেন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেননি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগরী আমির আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের জায়গায় জায়গায় বসাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা কর্মের অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছিল। আর সরকার মানুষদের শোষণ করছে জায়গায় জায়গায় লোক বসিয়ে। এ অবস্থায় আমরা বসে থাকব না।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা সার পাচ্ছে না, এজন্য আমাদের লংমার্চ। বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলে তার লম্বা এ জন্য বিদ্যুৎ আসতে সময় লাগে। মন্ত্রীর এমন বক্তব্য শোনা আমাদের জন্য লজ্জার।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগামীতে ঢাকার উদ্দেশে লংমার্চ হবে। বগুড়াবাসীকে প্রস্তুতি নিতে হবে। মানুষ এখন এক আঙ্গুল তুলে দেখায় এর অর্থ হলো তারা এক দফা চায়। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতির নিরাপত্তা চাই। বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কথা দিচ্ছি আমরা লড়ে যাবো, প্রয়োজনে জীবন দেবো। জনগণের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া বৈষম্যের শিকার। এই এলাকার সন্তানরা রক্ত দেওয়ার পরও পরিবর্তন হয়নি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা লংমার্চ করছি। যে গণভোটে জনগণের প্রায় ৭০% হ্যাঁতে ভোট দিয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি জীবন দিয়ে হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে ছাড়ব। আগামীর গণঅভ্যুত্থানে বগুড়াবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, বর্তমান সরকার দলখলবাজ, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ সরকার। ১১ দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় না গেলে দেশ আসলে দুর্নীতিমুক্ত হবে না। উত্তরবঙ্গের মানুষেদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা ছাড়া এ সরকারের কোনো পথ নেই। অতীতে যারা গণরায়কে উপেক্ষা করেছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিণতি শেখ হাসিনার মতো হোক তা আমরা চাই না। সংবিধান সংস্কার করার যে অঙ্গীকার করেছিল তা বাস্তবায়ন করুন। জনগণে কোনো গাদ্দার দেখতে চায় না। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। এর মধ্যে বিরোধীদলের সাথে কার্যকর আলোচনা করুন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় লোকদের জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বসিয়েছে সরকার। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। লংমার্চে জনগণের সাড়া দেখে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। বিএনপি দলবাজি ও চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী করে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ভারতের ভয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে লাখো জনতার উপস্থিতিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ করে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় যোগ দেয়।

পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে পথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেবে এবং সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 
এছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।