জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি আট দফা না মানলে এই আন্দোলন এক দফায় পরিণত হবে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।
১১ দলীয় ঐক্যেজেটের ৭ দফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে এ লংমার্চের জনসভায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি সারা দেশব্যাপী দখলদারি, চাঁদাবাজি লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাইয়ের দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয় করণ করেছে। তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাটছে। যা চলতে দেওয়া যায় না। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আপনাদের বাধ্য করা হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড.কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিরোধী দলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সচিব সারজিস আলম প্রমুখ।
ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ রওনা হয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান চলতিপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে এদিন দুপুর ২টার দিকে হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত জনসভায় এসে পৌঁছান।
জামায়াত আমির বলেন, কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে আট দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেল। আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত।
জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সেই দায়িত্ব পালন করছে না বলে অলি আহমেদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেন।
এনসিপি আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছিলাম। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কর্মসংস্থান করার কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেটা কি হয়েছে? হয় নাই। বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাস সংকট, সার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানোর পায়তারা করছে। আমরা বারবার জুলাইয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা করছে না। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়, তাহলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার বিকল্প থাকে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করছি। আমরা শান্তিপূর্ণ লংমার্চ পালন করছি। লংমার্চে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
লংমার্চের দিন সকাল সাড়ে আটটা থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়য়নের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মিছিল সহকারে মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভায় কানায় কানায় পূর্ণতা পায়। প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে পাঁকা মহাসড়কের ওপর লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার জন্য। দুপুর ২ টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে তারা রংপুরের উদ্দেশ্য রওনা হন।
নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির
ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চের সমাবেশ | সিরাজগঞ্জ | জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান | সরাসরি...