এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও ভারতের সোনালী সাফল্য

জাপানের মাটিতে ইতিহাস গড়ে এশিয়ান গেমসের সোনালী মুকুট নিজেদের মাথাতেই টিকিয়ে রাখল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। হাংজু গেমসের পর এবার নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল হারমানপ্রীত কৌরের দল। ফাইনাল ম্যাচে চামারি আতাপাত্তুর শ্রীলঙ্কাকে পাত্তাই দিল না বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ব্যাটে-বলে রীতিমতো ঝড় তুলে ১৪৭ রানের অবিশ্বাস্য ও বিশাল ব্যবধানে লঙ্কানদের উড়িয়ে দিয়ে আসরের প্রথম স্বর্ণপদক নিজেদের করে নিল ভারত।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রানের ব্যবধানে এটিই ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। তার সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। পাওয়ার প্লের সুবিধা নিয়ে লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম জুটি হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই দুই তারকা ব্যাটার। উইকেটে জমে যাওয়ার পর শেফালি ভার্মা ২৯ বলে ৪৮ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন। এই ইনিংস খেলার পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন এই ২২ বছর বয়সী ওপেনার।

শেফালি সাজঘরে ফিরে গেলেও দলের রানের গতি কমতে দেননি আরেক ওপেনার মান্ধানা। ৪ সেঞ্চুরি ও ৭ ছক্কার দারুণ এক ইনিংসে ৪৫ বলে ৭৯ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এই নান্দনিক ইনিংস খেলার পথে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

এরপর দলের রানের পাহাড় মজবুত করতে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করেন উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ। শেষ দিকে লঙ্কান বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে মাত্র ২২ বলেই ৬ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৪৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস উপহার দেন রিচা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত, যা এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে নারী ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর।

২১৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লের পর থেকেই শুরু হয় তাদের ব্যাটিং লাইনআপের ধস। ভারতীয় স্পিন ঘূর্ণির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা। দলীয় রান অর্ধশতক ছোঁয়ার আগেই টপ অর্ডারের ৬ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, আর দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুজন।

বল হাতেও উইকেটের ফায়দা তুলে নেন ভারতীয় বোলাররা। মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট শিকার করে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের আলো ছড়ান শেফালি ভার্মা। এছাড়া মাত্র ৬ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান ব্যাটিং স্তম্ভ ভেঙে দেন দীপ্তি। শ্রী চারানি ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিলও শিকার করেন দুটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। এই দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে এশিয়ান গেমসে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি চলতি গেমসে ভারতের সোনার পদকের খাতা খুলল ভারতীয় মেয়েরা।