মার্ক উডকে সবাইকে চিনতেন জোরে বল করতে পারা বোলার হিসেবেই। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই নিজের অসাধারণ গতি এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন দেড় বছর ইনজুরির সঙ্গে লড়াইয়ের পর হার মেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিলেন। ৩৬ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ইংল্যান্ডের এই সফল পেসার।
২০১৫ সালের অ্যাশেজ, ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন উড। তবে লম্বা সময় ধরে হাঁটুর চোট ও ক্রমাগত ইনজুরির ধকল সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আঙিনাকে বিদায় বলার কঠিন সিদ্ধান্তটিই বেছে নিলেন তিনি। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৪৬ ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা ২৫৩।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন এই ফাস্ট বোলার। এরপর গত শীতের অ্যাশেজে মাঠে ফেরার চেষ্টা করলেও চোটের কারণে আর টিকতে পারেননি। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ লড়াই ও অবসরের ঘোষণা প্রসঙ্গে উড সরাসরি বলেন, ‘নভেম্বরে পার্থে আমার শেষ ম্যাচের পর থেকে অনেক দিন কেটে গেছে। গত দেড় বছর ধরে ইনজুরি আমাকে মানসিকভাবে পিষে ফেলেছে এবং এই ভাবনাটাই মাথায় এসেছে যে, 'দেখো, আমি আর কখনোই এই লেভেলে ফিরতে পারব না'। আমার চুক্তি শেষ হচ্ছে সেপ্টেম্বরে, আর আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়।’
নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে উড আরও বলেন, ‘আমি কখনো ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ছাড়তে চাইনি, তবে নতুন যে ছেলেরা আসছে তারা দারুণ কাজ করছে। নতুন চুক্তির পাওয়ার যোগ্য তরুণদের নিয়েই এখন আলোচনা হওয়া উচিত, আর আমি অন্য বিষয়গুলোতে মন দিতে পারব।’
নিজের ক্যারিয়ারজুড়ে বারবার ইনজুরির চোরাবালিতে পড়তে হয়েছে উডকে। তবে প্রতিবারই অবিশ্বাস্য মানসিক জোর নিয়ে উইকেটে ফিরেছেন তিনি। ‘আমি সবসময় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি এবং ইনজুরি কাটিয়ে সবাইকে ভুল প্রমাণ করে দেখাতে চেয়েছি আমি কী করতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এবার আমি এই লড়াইয়ে হেরে গেছি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি ব্রডকাস্টিং বা গণমাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি কোচিংয়ের লেভেল-৩ ডিগ্রি অর্জনের পড়াশোনাও সেরে রেখেছেন তিনি। তবে চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়ানডে বা টেস্টের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে খেলা আর সম্ভব নয় তার পক্ষে।
ব্যক্তিগত কোনো রেকর্ডের চেয়ে সতীর্থদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন এই ইংলিশ পেসার। নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উড বলেন, ‘আমি চাই না কেউ আমাকে ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান দিয়ে মনে রাখুক। ড্রেসিংরুমে দলের সেরা সতীর্থ হিসেবে, একজন ভালো মানুষ হিসেবে এবং যে সবসময় দলের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে, এভাবেই সবাই আমাকে মনে রাখুক। আর হ্যাঁ, আমি জোরে বল করতে পারতাম!’
সব মিলিয়ে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে কেটে যাওয়া দীর্ঘ দেড় বছরের হতাশা এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ পেসারদের সুযোগ করে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন উড।