বেলকুচিতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব: ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৯, কিশোরীর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫৬ জন রোগী ভর্তি হলেন—যা বিগত সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

​এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নূরী খাতুন (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। সে বেলকুচি পৌর এলাকার ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় একটি অংশই মধ্যবয়সী। ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা দুটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করেছে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম আল-ইমরান জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৯ জনসহ চলতি মাসের ২৩ দিনে সর্বমোট ৫৬ জন রোগী ডেঙ্গু সনাক্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পৃথক ওয়ার্ডের পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসফিয়া সাবেরিন বলেন, 'ডেঙ্গু প্রতিরোধে শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।'

​বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান জানান, ডেঙ্গুতে কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।