সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে সর্বশেষ পোস্টটি এক মাস পাঁচ দিন আগের। সেখানে শোভা পাচ্ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া নিজের নবজাতক শিশুর ছবি। সন্তান কোলে নতুন এক মায়ের সেই আনন্দের বয়স মাত্র এক মাস পাঁচ দিন হতে না হতেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন রাশেদা বেগম রিমি (২৯)। এক মাসের এক অবুঝ শিশু ও সাড়ে চার বছরের আরেক ছেলেকে মাতৃহারা করে ডেঙ্গুর নির্মম জ্বরে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেওয়া ডেথ রেকর্ডে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘কারডিওরেসপিরেটরি ফেইলিয়র অ্যান্ড এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম’।
এর আগে বুধবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে রোজাইনা মমজিদ নামে চার বছরের এক শিশু মারা যায়। গত ৬ সেপ্টেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার তেজগাঁও এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে নয়জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে চারজনেরই মৃত্যু হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে।
রাশেদা বেগম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষার পাঠ চুকিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলায় স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগ দেন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থান করছিলেন তিনি। সম্প্রতি হালিশহর বিডিআর মাঠের পাশের বাসা ছেড়ে নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীর ছদু চৌধুরী সড়কের একতা আবাসিক এলাকায় নতুন বাসা নিয়েছিল পরিবারটি।
রাশেদার স্বামী ও মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আমিরুল হোসাইন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর তীব্র জ্বর আসায় রাশেদার ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়। শুক্রবার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তখন থেকেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। ভর্তি থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তবে কেবল রাশেদা একা নন, ডেঙ্গুর বিষাক্ত ছোবলে যেন পুরো পরিবারটিই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাশেদার স্বামী ও শাশুড়িও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁরা বুধবার চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পান। অন্যদিকে তাঁদের সাড়ে চার বছর বয়সী বড় ছেলেটি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফেরে।
রাশেদা বেগম রিমির বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী রাশেদা আক্তার ইমু বলেন, ‘ডেঙ্গুতে তাদের পুরো পরিবারটা তছনছ হয়ে গেছে। এক মাস আগে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে সে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়। এ কারণে সে বেশ দুর্বল ছিল। ডেঙ্গুতে তার প্লাটিলেট দ্রুতই কমে যায়। সে তার ছেলেদের খুব ভালোবাসত। ছোট ছেলেটা মায়ের আদর পাওয়ার আগেই সে না-ফেরার দেশে চলে গেল।’
ডেঙ্গু আক্রান্ত এমপি মাজেদ, সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চসিকের বিশেষ অভিযান