কণ্ঠশিল্পী নোশিন তাবাসসুম স্মরণ। ২০০৮ সালে ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে আগমন। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৮ বছর। দীর্ঘ পথচলায় নিজের প্রাপ্তি ও বর্তমান ব্যস্ততাসহ কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
প্রফেশনাল মিউজিক জার্নি কত বছরের হলো? শুরুটা কেমন ছিল?
প্রফেশনাল মিউজিক জার্নি প্রায় ১৮ বছরের। ২০০৮ সালে ‘ক্ষুদে গানরাজ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার এই পেশাদার মিউজিক্যাল জার্নি শুরু হয়েছিল।
এই ১৮ বছরের সংগীতজীবনে প্রাপ্তির খাতাটা কেমন?
আলহামদুলিল্লাহ! এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। শ্রদ্ধেয় সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, কুমার বিশ^জিৎ, সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আবিদা সুলতানা, রফিকুল আলম কিংবা প্রয়াত ফরিদা পারভীন ম্যামের মতো মানুষদের সান্নিধ্য ও ভালোবাসা পেয়েছি। তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগও হয়েছে, যা আমার ক্যারিয়ারে বড় প্রাপ্তি।
এত দিন ধরে গাইছেন, কিন্তু চলচ্চিত্রের গানে আপনাকে একটু কম দেখা যায় কেন?
কম পাওয়া যায় তা নয়, প্রতি বছরই এক-দুটি চলচ্চিত্রে, টেলিফিল্মে কাজ করা হয়। এ ছাড়া অনেক সময় সিনেমার নানা ঝামেলার কারণে গান রিলিজ হতে দেরি হয়। তবে আমার কণ্ঠে স্বাতন্ত্র্য আছে বলেই যে শুধু আমি সুযোগ পাব, তা নয়; দেশে আরও অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছেন।
আপনার একটি একক অ্যালবামও ছিল, সেটির কথা জানতে চাই।
সিডি অ্যালবামের যুগে আমার একক অ্যালবাম বের হয়েছিল ‘ফাহিম মিউজিক’ থেকে, নাম ছিল ‘স্মরণের জানালা’। ১২টি গানের এই অ্যালবামে শ্রদ্ধেয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল স্যার ও বিনোদ রায় স্যারের মতো গুণী মানুষদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত শতাধিক গান প্রকাশিত হয়েছে।
ইদানীং আপনাকে নতুন গান ছাড়াও কবিতা নিয়ে চর্চা করতে দেখা যায়। সাহিত্যের প্রতি এই অনুরাগ কীভাবে এলো?
কবিতা চর্চাটা আমার একদম ছোটবেলা থেকে। প্রথম শ্রেণি থেকেই আবৃত্তি করতাম, অনেক পুরস্কারও পেয়েছি। গান শেখা হয়েছিল শিক্ষকের কাছে আর কবিতা আবৃত্তি আমাকে মা শেখাতেন। সিডি বাজিয়ে বাজিয়ে শুনতাম, সেই ছোটবেলায় শেখা কবিতাগুলো মাথার মধ্যে গেঁথে আছে। ২০২১ সালে বইমেলায় ‘পূর্বা প্রকাশনী’ থেকে আমার একটি উপন্যাস ‘রাগরাগিণীর প্রণয়’ প্রকাশিত হয়েছিল। ইচ্ছে আছে নিজের লেখা কবিতাগুলো নিয়ে বই বের করার।
বেতার, টেলিভিশন, মঞ্চ এবং চলচ্চিত্রের গান সব মাধ্যমেই ব্যস্ত স্মরণ। সামনে শ্রোতারা আপনার কণ্ঠে কোন গানগুলো শুনতে পাবেন?
বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রকাশ হলো আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘স্মরণ ক্ল্যাপ’ থেকে কিংবদন্তি গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথায়, রাজেশ ঘোষের সুরে ‘কম্পন’ শিরোনামের গান। শহীদুল্লাহ ফরায়জীর লেখা ও অমিত চ্যাটার্জির সুর-সংগীতে ‘এক হৃদয়ের ভালোবাসা’ শিরোনামে একটি দ্বৈত গান আসবে, যেখানে আমার সঙ্গে গেয়েছেন মোমিন বিশ্বাস। এ ছাড়া রবিউল ইসলামের কথায় ও গোলাম সারওয়ারের সুরে ‘চিঠি’ এবং আমার নিজের লেখা ‘রং মশাল’ শিরোনামের গান দুটিও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বিটিভির ‘দ্য মিউজিক লেজেন্ডস’ অনুষ্ঠানের জন্য আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল স্যারের ৮টি গান কাভার করেছি। এ ছাড়া ‘আমার এ প্রেম ভুলো না’ গানটি সদ্য প্রকাশ হয়েছে।