মেয়ের চোখের জলে বাবার মুক্তি

মাদকের নির্মম গ্রাসে পড়ে একসময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক সরদারের (৩৫) জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। সামাজিক সুনাম ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুদের প্ররোচনায় মাদকে জড়িয়ে তার জীবনে এই চরম ছন্দপতন ঘটে।

অবশেষে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের মধ্য দিয়ে 'চুরি করার অপরাধে' স্থানীয়দের হাতে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

অভিযোগ, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে এক দোকানে চুরিচেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা ওয়ারেচ সরদারের ছেলে অনিক।

আটকের পর স্থানীয়রা তাকে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রাখেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবার আটকের খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তার ৯ বছরের মেয়ে তুবা আক্তার। সেখানে সে অবুঝ ভালোবাসায় বাবার মুখে খাবার তুলে দেয়। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়ে।

মেয়ের আকুলতার প্রেক্ষিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে অনিককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন।

সূত্রের খবর, অনিক মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা শিখে অনর্গল কথা বলতে পারতেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ ফরাজী বলেন, ‘অনিক বামরাইলের সামাজিক ও ব্যক্তিত্ববান একটি পরিবারের সন্তান। এরপরও তিনি ছিচকে চুরির ঘটনায় জড়িয়েছেন। এর প্রধান কারণ মাদক সেবন।’

প্রবাসফেরত ওমর খসরু তুহিন বলেন, ‘পারিবারিকভাবে তারা ভালো, সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত পরিবারের ছেলে। কিন্তু নেশার ভয়াল থাবা ধ্বংস করে দিয়েছে তার পুরো পরিবার ও বংশের মান-সম্মান। অনিক যথেষ্ট শিক্ষিত ও মার্জিত ছেলে। তার দুটি সন্তান। প্রশ্ন একটাই—কেন ভালো একটি পরিবারের শিক্ষিত ছেলে চুরির মতো লজ্জাজনক কাজে জড়াচ্ছে? উত্তর একটাই—নেশা।’

মুক্তির পর অনুশোচনা প্রকাশ করে অনিক সরদার বলেন, ‘আমি লজ্জিত। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে সামনের দিনগুলোতে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করব।’

অন্যদিকে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, ‘অনিক সরদার মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফিরলে কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি উদ্যোগে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অনিককে আলোর পথে ফেরানোর দায়িত্ব আমি নিতে চাই।’