আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দুই বছরে ৪০ পরিবার নিঃস্ব

এক মাসে আরও পাঁচ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন, ভাঙনের ঝুঁকিতে স্কুলের একমাত্র সড়ক ও ব্রিজ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন নদীতীরের বাসিন্দারা। গত দুই বছরে নদীভাঙনে ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই আরও পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পালরদী নদের শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুড়া খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ ও রাস্তা ধসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে তিনি দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছেন।

মিয়ারচরের প্রবীণ বাসিন্দা অলিল বেপারী (৭৫) জানান, আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, যত সরকারই এসেছে, সবাই ভাঙন রোধের কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে নদীভাঙন ঠেকাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। নতুন করে নদীতীরবর্তী রাস্তাও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচরে নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের অপর অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্থানে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত