যে মসজিদে ভিড় করছেন সব ধর্মের মানুষ!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

চৌদ্দ একর জমির উপর নির্মিত গুঠিয়ার বাইতুল আমান জামে মসজিদ। দেশুজুড়ে যার সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে গুঠিয়ার সান্টুর মসজিদ নামে। দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্যপূর্ণ আধুনিক স্থাপত্যর কলায় সাজানো মসজিটিতে শুধু মুসলিমরাই নয় সব ধর্মের মানুষেরই আনাগোনা থাকে।

২০০৬ সালে ওই মসজিদ উন্মুক্ত করার পর টানা ২০ বছর ধরে সেটি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। যে কারনে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। গুঠিয়ার চেংগুটিয়া এলাকায় মসজিদটিতে এক সাথে দেড় হাজার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীও পুরুষদের আলাদাভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক টানা ৩ বছর সময় ধরে কাজ করে মসজিদটি নির্মাণ করা এতে ২০টি গম্বুজ রয়েছে।

অপূর্ব কারুকার্যে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম। এর মূল সৌন্দর্য ফুটে উঠে সন্ধ্যার পর, ভবনের সৌন্দর্য বাড়াতে বর্নিল আলোকসজ্জা, মূল্যবান মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, সিরামিক দিয়ে তৈরি করা নকশার কাজ ও বিভিন্ন স্থানে বর্নিল কাচ দিয়ে ঘিরে রাখা যা এক নজর দেখলেই মন মুগ্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও মসজিদ কমপেক্সটিতে কাবা শরীফ, আরাপাত ময়দান, জাবালে রহমান,জাবালে নুর, নবিজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান, খরিফাদের কবরস্থানসহ মক্কা মদিনার বিভিন্ন স্থানের মাটি সংরক্ষন করা রয়েছে।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদেস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর নিজ অর্থায়নে মসজিদ নির্মান কাজ শুরু করেন। 

ক্যারিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, সুরা আল রহমানসহ আল কোরআনের বিভিন্ন আয়ত ও সুরা। মসজিদের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এতিমখানা। মসজিদ ঘিরে ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

বায়তুল আমান জামে মসজিদ দেখতে আসা বরগুনার জিন্নাত আরা বলেন, তিনি মসজিদটির সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।

দিনাজপুর থেকে আসা দীনেশ সরকার বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে মসজিদটি দেখতে আসছেন। তার মতে ধর্মের কোথাও বাধা নেই মসজিদ পরিদর্শন করা যাবে না। তিনি মসজিদটির পরিবেশ সৌন্দর্য্যও প্রেমে পড়েছেন।

মসজিদ ত্বদরকির কাজে নিয়োজিত হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি মসজিদটির জন্ম লগ্ন থেকে তদরকি করছেন। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আসছেন মসজিদটির নান্দনিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, গুঠিয়ার বায়তুল আমান মসজিদটি এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্য্যপূর্ন দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও তার সুনাম ছড়িয়েছে। সব ধর্মের মানুষ মসজিদটি এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত