ইরানের শান্তি প্রস্তাব

ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও এক সপ্তাহের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। উল্টো আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে আরও বেশি সফল হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ খবর প্রকাশ পেলেও ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। দেশটি বলেছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া ও সাত দিনের মধ্যে অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব। গত শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলে এখনই সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে সংঘাত থামার পর পারমাণবিক কর্মসূচিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে উভয় পক্ষ।

তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ শান্তি চুক্তি মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা কিংবা তা দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে তেহরান নিজের অধিকারে অটল থাকবে। ইরানের দেওয়া এ প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বন্দরগুলোর ওপর থেকে ওয়াশিংটনের নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ট্রাম্পের শর্ত পূরণ করবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। ট্রাম্প তার কর্মীদের বলেছেন, নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন তিনি। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই খবরের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন ওয়াশিংটনের কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কারণ তারা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান মনে করছে। ট্রাম্প নিজ ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ট্রাম্প প্রণালি লেখা একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন এবং এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প কোনো প্রতিকূল শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল তার নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে তিনি একতরফা সামরিক হামলা জোরদার করতে পারেন, যাতে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে মনে না হয়।