বিশেষজ্ঞ মত

সমীক্ষা ছাড়াই অবকাঠামো, হুমকিতে হাতিরঝিল

পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়াই হাতিরঝিলে একের পর এক অবকাঠামো নির্মাণের ফলে এর মূল পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তার মতে, হাতিরঝিলের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দূষণও বাড়ছে। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে হাতিরঝিলের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে। গত শুক্রবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দূষণের কারণে হাতিরঝিলের অবস্থা বেশ বিপন্ন। যে ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হাতিরঝিল প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে, সেগুলো এখন পর্যন্ত বন্ধ করা যায়নি। পাশাপাশি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যে অংশটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের পাশ দিয়ে বাংলামোটর অতিক্রম করেছে, সেটি নিয়েও কোনো ধরনের পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়নি। এখানে যে র‌্যাম্পগুলো করা হয়েছে, সেগুলো পানির প্রবাহ আরও বাধাগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এই অংশের দূষণও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হাতিরঝিলের ওয়াটার বাস সার্ভিসে নিয়মিত যাত্রী প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন ছিলেন। সেখানে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাতিরঝিলের ক্রমবর্ধমান পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে যে উদ্দেশ্যে হাতিরঝিল করা হয়েছিল, সেটি এখন অনেকটাই হুমকির সম্মুখীন। হাতিরঝিলের মূল পরিকল্পনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে যখন-তখন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো প্ল্যানিং অ্যাসেসমেন্ট বা এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট করা হচ্ছে না।

এই পরিকল্পনাবিদ আরও জানান, রাজউকের পক্ষ থেকে পরিকল্পনার মাধ্যমে হাতিরঝিলকে একটি স্পেশাল এরিয়া হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ জন্য আলাদা নীতিমালাও করা হয়েছে। হাতিরঝিলের দূষণ রোধ এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্ল্যানিং ও এনভায়রনমেন্টাল স্টাডি করা আবশ্যক। এটি না থাকলে শুধু ল্যান্ড ইউজের গাইডলাইন করে হাতিরঝিলকে রক্ষা করা যাবে না।