মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক হাসিব মোল্যা (২০) অবশেষে আত্মসমর্পণ করেছেন। নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়া থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। হাসিব কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে কদমতলা গ্রামে মানসুর মোল্যাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) কাসেদ মোল্যার সঙ্গে তার বংশীয় হাসিব মোল্যার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারেন।
এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রি-মোহনার মোড়ের দোকানে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেম্বার কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে জানতে চান-কেন কাসেদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ সময় হঠাৎ করেই ধারালো ছুরি বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে কোপাতে শুরু করে। এর মধ্যে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেওয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে মারা যান তিনি। আহত নূর ইসলাম চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে।
এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবের সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না।