কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ

পুলিশি অভিযানে তিন জেলায় আটক ১০৫৯

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও উঠতি বয়সীদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে দেশজুড়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের ১৭টি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর জেলায় কিশোর গ্যাং-বিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৪৪ জন এবং চাঁদপুরের ৮টি উপজেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করে পুলিশ। দেশ রূপান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম : কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ১৭টি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্রটি জানায়, গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোর আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকা-ে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযানে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ৩৫৪ কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও যতœশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে আসছে কি না এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য অভিভাবকদের ব্রিফ করা হয়।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমে অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে চট্টগ্রাম জেলা

লক্ষ্মীপুর : জেলার ছয় থানায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক সবার বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে রয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধ প্রবণতা রয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাং-বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি আটক কিশোরদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় একযোগে কিশোর গ্যাং-বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাদিরা নুর জানান, জেলার আটটি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে ওই অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশে ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তারা ওই অভিযান চালান। আটকদের মধ্যে ৩৫৫ জনের মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রতিরোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।