মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

রাজধানী ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে কোম্পানির কার্যালয় ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের একজন শাহ আলম অনিক মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মামুন, আসলাম, মুন্না, শাহরিয়ার মাহমুদ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আরেক ব্যক্তির নাম জানায়নি পুলিশ। তাদের মধ্যে মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে, তিনি অটোরিকশা চালান। তিনিও ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে, অন্যরাও ধরা পড়বে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন এজাহারভুক্ত আসামি।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ওই স্থাপনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও রয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন রবিবার আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্র নিয়ে স্থাপনায় ঢুকে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়। শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাদী ওই স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের নির্দেশে অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অস্ত্র নিয়ে স্থাপনায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবারসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। বাদী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা স্থাপনার মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাচের গেট ভাঙচুর করা হয়। এরপর হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করেন এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া নির্মাণকাজের জন্য রাখা ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকার রড নিয়ে যান। ওই ভবনের সামনে রাখা ফ্ল্যাট মালিক সুমনের ৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটারও নিয়ে যায় হামলাকারীরা। মামলার এজাহারে টিভি, ক্যামেরাসহ ৩৭ ধরনের জিনিসপত্র লুট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত