কুষ্টিয়ায় মব সৃষ্টি করে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ নূরজাহান বেগম। কিন্তু মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অজুহাতে থানায় নিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে আগের রেকর্ডভুক্ত (পেন্ডিং) একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়। কুষ্টিয়া আদালত পুলিশ সূত্রে জানায়, গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইবি থানার সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইবি থানার আমলী আদালতের বিচারক সানা খাতুনের আদালতে নুরজাহান বেগমকে সৌপর্দ করা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার নূরজাহান বেগমের বড় মেয়ে নাসিমা খাতুনের অভিযোগ, ‘গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় সামাজিক প্রতিপক্ষের শতাধিক লোক আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তার বাড়ির সবকিছু ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমার ছোট ভাই রুহুল আমীনের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকে। সে বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে আমাদের পাটের গুদামে লুকায়। তারা ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাটের গুদামেও আগুন লাগিয়ে দেয়। সবকিছু ধ্বংস করে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর বিচার চেয়ে মা নুরজাহান বেগম নিকটস্থ ইবি থানায় যান মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করে। উপায়ান্তর না পেয়ে মা গত ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ায় আমলী আদালতে মামলা করেন। আদালতে মামলার জেরেই পুলিশ মাকে সন্ত্রাস দমন মামলার সন্দেহজনক আসামি দেখিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। কোনো মানুষ বিচারের আবেদন নিয়ে আদালতেও যেতে পারবে না?’
নূর জাহানের ছোট মেয়ে সেলিনা খাতুন বলেন, ‘আজ সকাল ৭টার দিকে ইবি থানার পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি আদালতে আপনার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেছেন? তাহলে আমাদের সঙ্গে এখনই থানায় চলুন, ওসি স্যার আপনার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলবেন। এরপর দুপুর পর্যন্তও মা’কে পুলিশ বাড়িতে আসতে না দেওয়ায় তার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আমাকে জানানো হয় নুরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে চালান করা হবে। পরে জানতে পারি ইবি থানার একটি সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় সন্দেহমূলক আসামি করা হয়েছে মাকে। দেখুন আওয়ামী লীগ করত আমার ভাই রুহুল আমীন, সে এখন পলাতক। ছেলের কারণে বৃদ্ধ মা’কেই জেলে যেতে হলো!
নূর জাহানকে ইবি থানায় ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় (নং-১৭) গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে সরেজমিন এই মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আপনি গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতের যে সময়টার কথা বলছেন, ওই দিন আমি আমার আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে উল্লিখিত বিএনপি অফিসের বিপরীত পাশে মনিরের চা দোকানে বসে চা পান করছিলাম। মাগরিবের নামাজ পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে এমন কোনো হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা আমরা দেখিনি।’
এ বিষয়ে ইবি থানার ওসি এসএম মামুনুর রশীদ জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ৬নং পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীনের নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে স্থানীয় বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় ইবি থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলার এজাহার নামীয় ২নং আসামি রুহুল আমীন। ওই মামলার তদন্তে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে রুহুল আমীনের মা নুরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।