রাড্ডা সেন্টার দখলমুক্ত ফিরেছে স্বনামে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের চার দিনের মাথায় নিজস্ব নামের ব্যানার লাগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দখলমুক্ত ঘোষণা করে গতকাল সোমবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে হামলার পর টানানো ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেডের’ সাইনবোর্ড। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শুরু হয়েছে সংস্কারকাজ। পুলিশি প্রহরায় টিকাদান কার্যক্রম চালু রেখেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ঘটনায় নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লোহার গ্রিলের সঙ্গে সাদা রঙের একটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে। এর নিচেই হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইনের আরেকটি ব্যানার লাগানো। এর আগে ওই স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাগানো টিনের ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সাইনবোর্ড ছিল। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ মেরামতে কাজ করতে দেখা গেছে একদল শ্রমিককে।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গতকালও টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর্মীরা। সীমিত পরিসরের সেবা নিতে আসা অনেকেই শিশুকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। তবে প্রত্যেকেই অপেক্ষা করে সেবা নিয়ে ফিরেছেন। মূল ফটকে একটি বেঞ্চে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সদস্য, আর ভবনের ভেতরে এপিবিএন সদস্যদের দেখা যায়। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা বলছেন, এভাবে টিকা দেওয়া কষ্টের, তবুও যথাসময়ে যেন শিশুরা টিকা পায়, সেজন্য ভাঙা ভবনের মধ্যেও টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুসহ সবার কষ্ট হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আক্তার বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কিছু কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করে সীমিত পরিসরে সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিশুদের ইপিআই টিকা, হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনের টিকা এবং গর্ভবতী মায়েদের টিটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেসি নিশ্চিত করা গেলে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন চেকআপও শুরু করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বর্তমানে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকট রয়েছে। সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি ও ওয়াশরুমের সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েছি। তবে মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. মিন্টু ও মো. মিলন। গত রবিবার রাতে শাহ আলী থানাধীন এইচ ব্লক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই আতোয়ার রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে শাহ আলী থানাধীন গুদারাঘাট এলাকা থেকে লুণ্ঠিত কিছু টিন, স্টিলের দরজা ও গ্রিল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত মূলহোতা বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অন্যরা গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত