ফরিদপুরে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে রাজু শেখ (৩০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময় আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চরঅযোধ্যা ঢালারপাড় গ্রামের দুলু শেখের ছেলে। রায় ঘোষণা শেষে পুলিশ পাহাড়ায় আসামিকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। 
‎
‎আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ মার্চ রাতে চরভদ্রাসন উপজেলার চরঅযোধ্যা এলাকার এক কিশোরীকে মুখে গামছা প্যাঁচিয়ে জোরপূর্বকভাবে একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায় প্রতিবেশী যুবক রাজু শেখ। সেখানে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ভোরে অচেতন অবস্থায় ওই ঘরের পেছনে ওই কিশোরিকে খুঁজে পায় পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ৪ মার্চ রাজু শেখকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। 
‎
‎মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন- রাজু শেখ তাঁর কিশোরীকে প্রায়ই উত্যক্ত করত। ঘটনার দিন রাতে বাবুর্চির কাজে একটি অনুষ্ঠানে  চলে যান তিনি। একই রাত ১০ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে কিশোরী ঘর থেকে বের হলে মুখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে রাজু শেখ। 
‎
‎আদালত সুত্রে আরও জানা যায়, ওই কিশোরীর মায়ের দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করেন চরভদ্রাসন থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইলিয়াস হোসেন। এ মামলায় রাজু শেখকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ২৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে আদালতে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এরমধ্যে দিয়ে সমাজে ধর্ষণ ও ব্যভিচারের মতো অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এ রায় ধর্ষকদের জন্য বড় ধরনের বার্তা বহন করবে বলে মনে করেন তিনি।