এভারকেয়ার চট্টগ্রামে ২ হাজারের বেশি হৃদরোগীর এনজিওপ্লাস্টি

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীসহ দুই হাজারের বেশি হৃদরোগীর এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং (পিটিসিএ) চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি ক্যাথেটারাইজেশন (ক্যাথ) প্রসিডিউর সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক প্রেস ইভেন্ট ও র‍্যালিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘ডোন্ট মিস অ্যা বিট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার বলেন, দুই হাজারের বেশি রোগীকে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং সেবা দিতে পেরে তারা গর্বিত। রোগীদের আস্থা এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন বলেন, দুই হাজারের বেশি রোগীকে এ সেবা দেওয়া বড় অর্জন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে।

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াছ বলেন, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. তারিক বিন আব্দুর রশিদ বলেন, হৃদরোগ এখন শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যেই এ রোগ দেখা যাচ্ছে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও ফলোআপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হাসপাতালের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, উন্নত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করাও জরুরি।

অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট ডা. সমীর কুমার পাল বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা এককালীন বিষয় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন ও নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট ডা. রাকিব চৌধুরী বলেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ বুকে তীব্র চাপ বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে এভারকেয়ার হসপিটালস চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কউলসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।