জাপানের মাটিতে পা রাখার পর থেকেই আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা, আর অবিরাম বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছিল না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। অবশ্য বাকি দলগুলোর জন্যও পরিস্থিতি ছিল তেমনই। সবশেষ ৬ ম্যাচের একটিও গড়ায়নি মাঠে, যার মধ্যে ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচও। তবে নিশিনে অবশেষে স্বস্তির রোদ দেখল লিটন দাসের দল।
টানা বৃষ্টি ও বাজে আবহাওয়ার কারণে এতদিন মাঠের বাইরে সময় কাটাতে বাধ্য হওয়া লিটন-হাসানরা এখন সমস্ত জড়তা কাটিয়ে প্রস্তুত পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার জন্য।
এর আগে বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগই হয়নি। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হলেও আসল লড়াই তো ফাইনালে ওঠার। তার আগে গতকাল বুধবার সূর্যের মুখ দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এতে অনুশীলনটা সবাই সেরেছেন মাঠেই।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় এই ম্যাচ দিয়েই চলতি এশিয়ান গেমসে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রথমবার মাঠে নামার অপেক্ষা আছে লাল-সবুজের দল।
তার আগে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইয়াসির আলী রাব্বি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! জাপান আসার পর মনে হয় এই প্রথম আমরা রোদ দেখলাম। ভালো লাগছে, আজকে ভালোভাবে একটু মাঠে নামতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ কালকেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে রোদ আছে মাঠে। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা ভালো আবহাওয়া পাব খেলার জন্য।’
ফাইনালে ওঠার এই কঠিন লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করা বাংলাদেশ দলের জন্য এবারের আসরে পদকের প্রত্যাশা বেশ জোরালো। প্রতিপক্ষ দলে কিছু পরিবর্তন বা তারুণ্যের আধিক্য থাকলেও পাকিস্তানকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে নারাজ লিটন-মুস্তাফিজরা।
মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের কৌশল ও ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসির জানান, ‘আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা দলের সঙ্গে আমাদের প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখা উচিত ও ইতিবাচক খেলা উচিত। এই দুইটা জিনিস প্রত্যেকটা দলের ক্ষেত্রেই কমন। বাকিটা উইকেট দেখে, আবহাওয়ার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। তখন খেলা যাবে ইনশাআল্লাহ।’
টানা বৃষ্টির কারণে নেটে ব্যাট-বলের অনুশীলন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও মানসিকভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে একটুও ঘাটতি রাখেনি দল। ইনডোর কিংবা জিম সেশনের পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে নিজেদের ফিট রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছে তারা।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) পাঠানো ভিডিওবার্তায় নিজেদের মানসিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে ইয়াসির আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখি নিজেকে। যতটা নিজেকে মাঠে রাখা যায়, যেমন পুরো দলের একটা জিম সেশন ছিল। আমরা ব্যাটিং-বোলিং করতে পারিনি কিন্তু মাঠে এসেছিলাম, ফুটবল মাঠে আমরা প্র্যাকটিস করেছি, ফুটবল খেলেছি। তো আমরা যতটুক পেরেছি, নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করেছি।’