যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর পাঁচ যুবককে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই গ্রামের মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকার দিকে যান। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা ও তল্লাশি করছিলেন। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে মান্দারতলা এলাকায় প্রাইভেটকারটি ফেলে কয়েকজন বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান। পরে মালোপাড়া এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। তাঁদের মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। আহত অবস্থায় তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। তবে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক ব্যক্তিরা ঘটনাটি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। তাঁদের একজন বলেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে তাঁরা এসেছিলেন। আরেকজন দাবি করেন, তাঁদের একজনের স্ত্রীকে নিতে এলাকায় এসেছিলেন। অপর একজন বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। তাঁদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন। তবে তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তাঁদের মারধর করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।