নদী খননের পাশাপাশি দ্রুত টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) চালু না হলে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের ব্যয় করা ১৪০ কোটি টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।
এজন্য আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই আইডব্লিউএম প্রস্তাবিত বিলে টিআরএম চালু ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’-এ পদযাত্রা ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টম্বর) দুপুরে যশোর শহরের নীলরতন ধর রোডে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত জুলাই মাসের অতিবর্ষণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম গত তিন মাস ধরে পানির নিচে রয়েছে। ফসলিজমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় তলিয়ে থাকায় লক্ষাধিক মানুষ চরম খাদ্যসংকট ও মহাবিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পানি সামান্য কমলেও নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কায় ওই জনপদের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চললেও টিআরএম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জোয়ারের সঙ্গে আসা অতিরিক্ত পলি থেকে নদী বাঁচাতে হলে আগামী চার মাসের মধ্যে (মাঘী পূর্ণিমার আগে) টিআরএম চালু করা জরুরি। তা না হলে পলি পড়ে নদী আবার দ্রুত ভরাট হয়ে যাবে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দুই বছর আগে আমডাঙা খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ হলেও রহস্যজনক কারণে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আটকে আছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান নস্যাৎ করতে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে।
নেতারা জানান, গত ১৬ মে যশোরে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর প্রকল্প প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। কিন্তু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এখনো সেই অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এ ছাড়া গত ৩০ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও এক মাসেও তার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় পানিবন্দি মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের হামলার দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ‘ভবদহ দিবস’ পালন করা হয়। ওই হামলায় সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক প্রয়াত রনজিৎ বাওয়ালীসহ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছিলেন। সেই হামলার বিচার ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর বিকেল তিনটায় অভয়নগর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি আশু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে আমডাঙ্গা খালের বিস্তৃত পুনর্খনন ও প্রশস্তকরণ, নদী-খাল থেকে কচুরিপানা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ, সেনাবাহিনীর দেওয়া পাচাকড়ি-রাজবংশীপাড়ার বাঁধ ও এলজিআরডির মাটির বাঁধ অপসারণ এবং ভবদহের ২১ গেটের সামনের লোহার বেড়া কেটে দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির নেতা শেখর বিশ্বাস, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, বাসন্তী মণ্ডল ও সঞ্জয় বৈরাগী প্রমুখ।