ফিফা আসিয়ান কাপে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯–২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে বাংলাদেশ ২টি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টমাস ডুলির শিষ্যদের।
এই জয়ে প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপের ফাইনালে উঠেছে ডিভিশন ১ এর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনে শেখ মোরছালিনের জায়গায় শাহরিয়ার ইমনকে নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান, জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী ও তারিক কাজীদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ম্যাচের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়ার গতির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
ম্যাচের ১১তম মিনিটেই ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে মিচেল লি বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া (১–০)। ২০তম মিনিটে বাংলাদেশ সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করার পরপরই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন বেকার। ৩১ মিনিটে রিজকি রিদোর গোল ইন্দোনেশিয়াকে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
৩৬তম মিনিটে সুকি ইতোফুসার নিচু ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান ৩–১ করেন শাহরিয়ার ইমন। এটি চলতি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম গোল। তবে উদযাপনের সময়ও পাননি ফুটবলাররা; পরের মিনিটেই বেকার নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলকে ৪–১ গোলে এগিয়ে নেন। ৪২ মিনিটে বেকারের হেডে ৫ম এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে জাস্টিন হাবনারের হেডে ৬–১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের শমিত সোম।
বিরতির পর ফারহান আলী ও মিনহাজকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষদিকে আবার ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
ম্যাচের একপর্যায়ে মিনহাজের জামা টেনে ফেলে দিলে ইন্দোনেশিয়ার এলকান ব্যাগোটকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ভিএআরে সম্ভাব্য লাল কার্ডের পরীক্ষা করা হলেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। ৮৪তম মিনিটে রমনির গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
তবে ৮৯ মিনিটে লুক বিকারির গোলে ব্যবধান ৭–১ করে ইন্দোনেশিয়া। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের চমৎকার ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ফারহান আলী (৭–২)। কিন্তু এর পরপরই মাঠের আবহ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
অতিরিক্ত সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল জমা করে বাংলাদেশের জালে। ফলে ৯–২ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকেরা।
একই সময়ে অন্য এক মাঠে মালয়েশিয়া ৬-০ গোলে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়।
ফুটবলে বাংলাদেশে বড় পরাজয়
ফলাফল প্রতিপক্ষ প্রতিযোগিতা সাল
৯-০ দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্টস কাপ ১৯৭৯
৯-০ ইরান প্রীতি ম্যাচ ১৯৮২
৯-১ হংকং প্রীতি ম্যাচ ১৯৭৫
৯-২ ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান কাপ ২০২৬
৮-০ জর্ডান বিশ্বকাপ বাছাই ২০১৬
৮-০ জাপান বিশ্বকাপ বাছাই ১৯৯৩
৭-০ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ বাছাই ২০২৩
৭-০ আমিরাত বিশ্বকাপ বাছাই ১৯৯৩
৭-০ ইরান এশিয়ান কাপ ১৯৮০
৭-১ মিয়ানমার প্রীতি ম্যাচ ১৯৭৫
৬-০ সৌদি আরব বিশ্বকাপ বাছাই ২০০১
৬-০ উজবেকিস্তান এশিয়ান কাপ ১৯৯৯