আটকে গেল সি-ট্রাক ও ফেরি ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

নাব্য সংকটে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড নৌরুটে বৃহস্পতিবার দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি কপোতাক্ষ ও সি-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপ নাব্য সংকটে নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারেনি। এতে একদিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলেন কয়েকশ যাত্রী ও ৪০টির বেশি পণ্যবাহী যানবাহন, অন্যদিকে গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরি কপোতাক্ষ ও সি-ট্রাক আটকে দুর্ভোগে পড়েন প্রায় ছয় শতাধিক যাত্রী।

ওইদিন সকাল ৬টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাট থেকে সীতাকুন্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি কপোতাক্ষ। কিন্তু ঘাটের মুখে ফেরিটি আটকে যায়। পরে জোয়ার এলে ফেরিটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। বিকেল ৪টার আগে এটি বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছায়।

বাঁশবাড়িয়া থেকে ফেরিটি দুপুর সাড়ে ১২টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সকাল ১১টা থেকেই ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন প্রায় দুই থেকে তিনশ যাত্রী। একই সঙ্গে সন্দ্বীপে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ৪০টির বেশি পণ্যবাহী গাড়ি। নির্ধারিত সময়ে ফেরি না আসায় দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয় তাদের।

ফেরি কপোতাক্ষ বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছার পরও নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। ঘাটের হাই-ওয়াটার অংশটি ফেরি ভেড়ানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় ফেরিটি পন্টুনে নিরাপদে ভিড়তে পারেনি। ফলে সন্দ্বীপ থেকে আসা যাত্রীদের লাল বোটে করে কোনোমতে তীরে নামানো সম্ভব হলেও নতুন করে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন ফেরিতে তোলা যায়নি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও নৌযানে উঠতে না পেরে সন্ধ্যার দিকে অনেক যাত্রী বাড়ি ফিরে যান। সকাল থেকে তীব্র রোদে ঘাটে অপেক্ষা করা নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। যাত্রী এবং পণ্যবাহী গাড়িচালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি, বসার ব্যবস্থা কিংবা ওয়াশরুমও নেই ঘাটে। ফলে সাত-আট ঘণ্টা ধরে তীব্র রোদ ও ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হয়েছে তাদের।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোহাম্মদ শামিম বলেন, সকাল থেকেই তিনি অন্যদের সঙ্গে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সি-ট্রাক নিঝুমদ্বীপ কিংবা ফেরি কপোতাক্ষ সময়মতো ঘাটে পৌঁছায়নি। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। তিনি এ রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে নৌমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উদ্বোধনের দিনেই আটকে গেল সি-ট্রাক : দীর্ঘদিনের দাবির পর বৃহস্পতিবার সন্দ্বীপ-সীতাকু- নৌরুটে আধুনিক সি-ট্রাক এস.টি নিঝুম দ্বীপ যাত্রী নিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া থেকে সীতাকু-ের বাঁশবাড়িয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই নাব্য সংকটে গুপ্তছড়া খালের মুখে সি-ট্রাকটি আটকে যায়। এতে তিন থেকে চারশ যাত্রী আটকা পড়েন। পরে পরিস্থিতি দেখে অনেক যাত্রী লাল বোটে করে তীরে নেমে আসেন।

সি-ট্রাক যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ৪টার দিকে যখন লালবোটের মাধ্যমে সি-ট্রাক থেকে নামছিলেন তখন বিকেল ৪টা, ওই সময়েও প্রায় শতাধিক যাত্রী সি-ট্রাকে ছিলেন। সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে লালবোটের মাঝি জনপ্রতি ৫০ টাকা আদায় করে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন সি-ট্রাক চালু হলেও প্রথম দিনেই নাব্য সংকটের কারণে আটকে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এদিকে সি-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপ ছাড়ার প্রাক্কালে সন্দ্বীপের স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে নাব্য নিয়ে হতাশার সুরে এস. টি নিঝুম দ্বীপের ক্যাপ্টেন একরামুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত ফেব্রুয়ারিতে গুপ্তছড়া খালের মুখে ভাটার সময় ৯ থেকে ১২ ফুট পানির গভীরতা দেখেছি অথচ এখন জোয়ারের সময়েও স্বচ্ছন্দ গতিতে সি-ট্রাক চলাচলে আশঙ্কা দেখছি।’

এদিকে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সব সময় বলে আসছি নিয়মিত ড্রেজিং না করলে ফেরি চলাচলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হবে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের ম্যানেজার (যাত্রী বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌয়ান বলেন, নাব্য সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড রুটে সার্ভিস সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে।