মুরাদনগরে হাসপাতালে অবহেলা, প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যস্ত চিকিৎসক

কুমিল্লার মুরাদনগরে দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে সময় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এনামুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অভিযুক্ত এনামুল হক চৌধুরী বাঙ্গরা উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, হাজিরা খাতায় ১ ও ২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকের উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ২৫ দিনের মধ্যে একদিনও উপস্থিতির স্বাক্ষর নেই।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও প্রতি মাসে দু একবার এসে হাজিরা খাতার স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন তিনি। পাশাপাশি তুলে নেন সরকারি বেতন ভাতা। 

এদিকে কর্মস্থলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতির ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি হয়ে আসেন এনামুল হক চৌধুরী। এরপর থেকেই তার কর্মস্থলে অনিয়মিত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এনামুল হক চৌধুরী অফিস চলাকালীন সময়ে পূর্বের কর্মস্থল দেবীদ্বার উপজেলা সদরের ‘দি ডক্টরস ল্যাব’ নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। সেই কারণেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে হয়।

সবজি ব্যবসায়ী আল-মামুন (৩৫) শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা মামুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অসুস্থ হলে বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে এসেও দেখি ডাক্তার নেই। এই ডাক্তার সরকারের বেতন খান, কিন্তু হাসপাতালে আসেন না। প্রতিদিন রোগীরা এসে ফিরে যায়। এর জরুরি সমাধান চাই।

চিকিৎসা নিতে আসা আসাদ মিয়া (৩২) বলেন, শনিবার চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে গেছি। এর আগেও এসে ডাক্তার পাইনি।

৬০ বছর বয়সী জুলেখা বেগম নাতনিকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। নিজেও অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসককে না পেয়ে তাকেও বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে হয়।

একই অবস্থা জুলেখা বেগমের তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বড় কোনো হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারি না। এখানে এসেও ডাক্তার পাই না। এখন যাব কোথায়?

যোগীরখিল গ্রাম থেকে শিশুদের জন্য  চিকিৎসা নিতে আসা মায়মনা (৩০) ও বিউটি আক্তার (২৮) একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে ফার্মাসিস্টের কক্ষ থেকে কিছু ওষুধ নিয়েছেন। ডাক্তার না থাকায় তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

এদিকে উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার এনামুল হক চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুলবশত টানা ২৫ দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা হয়নি। বিষয়টি এখন খারাপ লাগছে। তবে রোগীর রেজিস্টার নিয়মিত সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, বাঙ্গরায় চিকিৎসক অনিয়মিত থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এছাড়াও ওনার ডক্টরস নামে একটা চেম্বার রয়েছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি আরো খোঁজ খবর নিবো। তিনি যেন নিয়মিত অফিস করেন তাকে বলে দেওয়া হবে ।