উন্নত ও নিরাপদ সামাজিক পরিসরে গুরুত্ব দিচ্ছে মাতৃভূমি গ্রুপ

আবাসনকে শুধু একটি ঘর বা একটি জমির মালিকানা হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ, পরিকল্পিত ও আধুনিক জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানায় বিশ্ব আবাসন দিবস। প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার পালিত হয় দিবসটি। চলতি ২০২৬ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ, পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসন বিষয়টির গুরুত্ব বেশ গভীর। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, সীমিত ভূমি, বাড়তে থাকা জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ ব্যয় এবং জটিল নিয়ন্ত্রক কাঠামো সব মিলিয়ে দেশের আবাসন খাত একই সঙ্গে বড় সম্ভাবনা ও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ নগর জনসংখ্যায় যুক্ত হচ্ছে। অথচ এর বিপরীতে আনুষ্ঠানিক উৎস থেকে বছরে আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে মাত্র ৩০ হাজার ইউনিট। ফলে বিশেষ করে মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ও মানসম্মত আবাসনের একটি বড় সংকট তৈরি হচ্ছে। যেখানে সংকট সেখানেই অপার সম্ভাবনা! আবাসন শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নির্মাণশিল্পের পাশাপাশি ইট, বালু, সিমেন্ট, ইস্পাত, সিরামিক, আসবাব, প্রকৌশল, পরিবহন ও আর্থিক সেবাসহ বহু খাত এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে জমির উচ্চমূল্য, নির্মাণ ব্যয়, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ক্রেতার আস্থার বিষয়গুলো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আবাসন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাতৃভূমি গ্রুপের পরিকল্পনা শুধু নতুন প্রকল্প তৈরিতে নয়, বরং পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণের মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প নিশ্চিত করা।

মাতৃভূমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার মো. মাইনউদ্দিন মিয়া শুধু ভূমি উন্নয়নের (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য উন্নত ও নিরাপদ সামাজিক পরিসর তৈরিকে (গেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট) আধুনিক আবাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আবাসন মানে শুধু জমি উন্নয়ন বা প্লট বিক্রি নয়; আবাসন খাতে মানুষের জন্য একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি করা। একটি প্রকল্পের সাফল্য শুধু জমির অবস্থান বা আয়তনে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং উন্নত অবকাঠামো, প্রকৌশলগত মান, যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা, সবুজায়ন এবং একটি সমৃদ্ধ গেটেড-কমিউনিটি গড়ে তোলার সক্ষমতা থাকতে হবে।’

একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, গ্রাহকের আস্থা এবং নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর মাতৃভূমি গ্রুপ এমডির আবাসন ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, তার দৃষ্টিতে একজন মানুষ যখন একটি প্লট কেনেন, তখন তিনি শুধু আজকের জন্য জমি কেনেন না। মানুষটি তার পরিবার ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করেন।

মাতৃভূমি সিটির পরিকল্পিত উদ্যোগ : উক্ত ভাবনাকে সামনে রেখে মাতৃভূমি গ্রুপের অন্যতম মেগাপ্রকল্প ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের পাশেই নিমতলা বাজার সংলগ্ন ‘মাতৃভূমি সিটি’ একটি পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রায় ৭৫০ বিঘা জায়গাজুড়ে প্রকল্পটি বিস্তৃত। এতে রয়েছে তিনটি সেক্টর, চারটি ব্লক এবং ৩ হাজার ৭০৭টি প্লট। পাশাপাশি প্রকল্পের ভেতর ২৫ থেকে ১০০ ফুট প্রশস্ত সড়ক, লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, শপিং মল, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টার, লাইব্রেরি, জিম ও পার্কিংসহ বিভিন্ন আধুনিক নাগরিক সুবিধা রয়েছে।

মাতৃভূমি রিসোর্টের দৃশ্যমান অগ্রগতি : অবকাশ, বিনোদন ও বিনিয়োগের সমন্বিত ভাবনায় মাতৃভূমি গ্রুপের আরেকটি পরিকল্পিত উদ্যোগ ‘মাতৃভূমি রিসোর্ট’। ইতিমধ্যে ১৪ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে ‘মাতৃভূমি রিসোর্ট’। এর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। একটি ইউনিক আইকনিক ফাইভ-স্টার হোটেল ও ‘অপেরা হাউজ’ নামে নান্দনিক শপিং মলের নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান। রিসোর্টটিতে থাকছে আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে আন্ডার-ওয়াটার প্রেসিডেন্সিয়াল হাউজ, ভিলা ও কটেজ, সিনেপ্লেক্স, কনভেনশন হল, ফুডকোর্ট, কিডস জোন, ইনডোর গেমস, সুইমিংপুল, স্পোর্টস এরিনা, লেকভিউ রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন বিনোদন ও অবকাশ সুবিধা। দেশের প্রথম কৃত্রিম বালুকা বিচ থাকছে এই প্রকল্পের ওয়াটার পার্কে। পাশাপাশি বিয়ে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও করপোরেট আয়োজনের জন্য থাকছে নির্দিষ্ট স্থান; আছে শেয়ারভিত্তিক মালিকানার সুযোগ। এছাড়া মাতৃভূমি সিটির শেয়ার হোল্ডারদের জন্য থাকছে ‘রোজা ক্লাব’ মেম্বারশিপ, যেখানে তারা পরিবার নিয়ে অবকাশযাপনের বিশেষ সুযোগ পাবেন।

আবাসন থেকে কমিউনিটি : মাতৃভূমি সিটির পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জমিকে একটি বিচ্ছিন্ন সম্পদ হিসেবে না দেখে বৃহত্তর গেটেড-কমিউনিটির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। কারণ একটি ভালো আবাসন প্রকল্প শুধু মানুষকে একটি ঠিকানা দেয় না; বরং সেই ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত করে নিরাপত্তা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা, সামাজিক যোগাযোগ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের সুযোগ।

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের সামনে তাই আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ শুধু আরও বেশি আবাসন তৈরি করা নয়। বরং আরও পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশের ভারসাম্য, উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক নাগরিক সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য এসব বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ভবিষ্যতের আবাসন প্রকল্প তৈরি করা।

মাতৃভূমি গ্রুপের অঙ্গীকার : বিশ্ব আবাসন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাসস্থান মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবিক চাহিদা এবং একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মাতৃভূমি গ্রুপ আধুনিক পরিকল্পনা, উন্নত অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার সমন্বয়ে মানুষের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও বাসযোগ্য আবাসন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু আবাসন নয়, মানুষের জীবনমান ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে বাংলাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ণের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশীদার হতে চায় মাতৃভূমি গ্রুপ।