বিদায়ের মঞ্চে মেসিকে ‘হাসিমুখে দেখতে’ চান দিবু মার্তিনেজ

লিওনেল মেসির বিদায় মানেই চোখ ভিজে ওঠার কথা, বুক চিরে বেরিয়ে আসার কথা দীর্ঘশ্বাস। সতীর্থদের মনেও বিদায়ের এই ক্ষণে চাপা বেদনা আর দীর্ঘশ্বাসের মেঘ জমে থাকলেও, কিছুটা ভিন্ন সুরের কথা জানালেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো দিবু মার্তিনেজ। মহাতারকার এই অন্তিম বিদায়বেলায় কোনো কান্না বা বিষাদের সুর দেখতে নারাজ তিনি। মনের গভীরে যত কষ্টই থাকুক না কেন, স্পষ্ট ভাষায় দিবু জানিয়ে দিয়েছেন, বিদায়ের এই ক্ষণে তিনি স্রেফ মেসির মুখে হাসি আর তাকে নিজের মতো করে খেলাটি পুরোপুরি উপভোগ করতে দেখতে চান। 

বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন মেসি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় দলের ক্যাম্পে শুরু হয়েছে আবেগঘন সব আয়োজন। তার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর মার্তিনেজ জানান, দলের সতীর্থরা তাদের কাপ্তানকে বিশেষ উপায়ে বরণ করতে ক্যাম্পের রেসিডেন্সে একটি ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ বা আসাদো পার্টির আয়োজন করেছিলেন। 

সতীর্থদের এই উদ্যোগ নিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা তাকে আমাদের সাথে থাকা অল্প সময়ে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করব।’

এদিকে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মার্তিনেজ আগেই এই আবেগী মুহূর্তের সূচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাকে প্যাম্পার করার চেষ্টা করব এবং নিশ্চিত করব যে সে এই মুহূর্তটি যতটা সম্ভব উপভোগ করে, তাকে আলিঙ্গন ও চুম্বনে ভরিয়ে দেব এবং সে যেন সুখী থাকে।’ 

মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং ইতিহাস গড়ার অনুভূতি প্রকাশ করে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি তাকে যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছি, এবং সে তা জানে, আর আমরা সবসময় এ বিষয়ে কথা বলি। তার অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার চেষ্টা করা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সম্মান ছিল। তিনি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় এবং আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি তার যাত্রার অংশ হতে পেরেছি।’ 

সব মিলিয়ে মার্তিনেজ চান মেসির বিদায়টা যেন হোক উদযাপনের মধ্যে, লিও মুখের হাসির মধ্যে আর তাকে শেষবারের মতো আলবিসেলেস্তে জার্সিতে খেলাটা উপভোগের মধ্যে দিয়ে। ‘আমি তাকে উপভোগ করতে এবং হাসতে দেখতে চাই।’ 

এদিকে, উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত সবশেষ বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের বেদনা এবং টুর্নামেন্টের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের চিন্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চেলসির এই গোলরক্ষক বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের হার আমাকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছিল। সেই বেদনা আমার মধ্যে দীর্ঘসময় রয়ে গিয়েছিল। ফাইনালের পর যে কষ্ট অনুভব করেছি, তা লাঘব করতে ক্লাব পর্যায়ে পরিবেশ বদলানো জরুরি ছিল এবং আমি তা অর্জন করেছি। এখন আমি এখানে আসি এবং অনুভব করি যে আমি ভালো আছি, সুখী আছি এবং আমার অনেক শক্তি আছে। শেষ পর্যন্ত, আমাকে আমার দেশ এবং পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, এবং সেরা উপায়ে তা করতে হবে।’ 

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ সময়ে অ্যাস্টন ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি নতুন উদ্দীপনা খুঁজে পান এবং ২০৩০ সালের চক্রকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শতভাগ নিবেদন নিশ্চিত করেন।

তবে মেসি চলে যাওয়ার পর দলের ওপর এর প্রভাব কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করে বিশ্বজয়ী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘তাঁর প্রস্থান একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে... কিন্তু আমাদের শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের খেলোয়াড়রা আছে।’