মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিক ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ উপেক্ষা করে মিয়ানমারের প্রায় ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত সপ্তাহের মধ্যে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গতকাল মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেশটির জন্য আর্থিক বোঝা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে মালয়েশিয়া সরকার এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটি আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, ফেরত পাঠানো নাগরিকদের একাংশকে মিয়ানমার সরকারের পাঠানো বিশেষ উড়োজাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় গত সপ্তাহে প্রায় ১৪০০ জনের বেশি নাগরিককে সমুদ্রপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের বহনকারী নৌযানগুলো গত রবিবার ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছায় বলে জানান মিয়ানমারের আঞ্চলিক সরকারের মন্ত্রী নায় লিন তুন। প্রত্যাবাসন করা এসব মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বেশ কিছু আইনপ্রণেতার উদ্বেগ জানানোর কথা স্বীকার করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষ ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা তাদের সামনে দুটি শর্ত রেখেছিলাম। প্রথমত, তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করতে হবে; যেন কোনো ধরনের নির্যাতন, জবরদস্তি বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে।’ তিনি আরও জানান, চলতি মাসেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং কুয়ালালামপুর সফর করবেন। সে সময় তার সঙ্গে এই প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, আগে থেকেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চলা গৃহযুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার নিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দেশটির লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া থেকে ধাপে ধাপে মিয়ানমারের ৫ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠানো হবে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরও ১০ হাজার ৩০০-এর বেশি মিয়ানমারের নাগরিক দেশটির অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রগুলোয় আটক রয়েছেন। মিয়ানমারের এসব নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব শরণার্থী ও অভিবাসীর কাছে আর কোনো বিকল্প না থাকায় তারা মিয়ানমারে ফিরছেন।