ফুটবল দুনিয়ার রূপকথাগুলো বুঝি এভাবেই শেষ হয়। চোখের কোণে জল, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা আর হৃদয়ে অসীম ভালোবাসা নিয়ে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ অধ্যায় লিখতে গিয়ে লিওনেল মেসি উপহার দিলেন এক অনন্য দৃশ্যপট। বুয়েনস আইরেসের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ারের অন্তিম আকাশি-নীল জার্সিটি তিনি তুলে দিলেন রিভার প্লেটের ভক্তদের জন্য। শৈশবের সেই না-পাওয়া ঠিকানার জাদুঘরে চিরতরে অমর হয়ে থাকবে মহাতারকার শেষ জার্সি।
বিদায়ী ম্যাচের আগে রিভার প্লেটের সম্মানসূচক সদস্যপদ গ্রহণ করার পর ক্লাবটির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ নিজের ক্যারিয়ারের শেষ আকাশি-নীল জার্সিটি উপহার দিয়েছেন এই মহাতারকা, যা এখন অত্যন্ত যত্নে শোভা পাচ্ছে রিভার প্লেটের নিজস্ব জাদুঘরে।
বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের প্রীতি ম্যাচের আগের ও পরের নানা আয়োজনে এক আবেগঘন পরিবেশের তৈরি হয়। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে রিভার প্লেটের সভাপতি স্তেফানো দি কার্লো ক্লাবটির সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড ও বিশেষ স্মারক তুলে দেন মেসির হাতে। সেই কার্ডের সদস্য নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এক ঐতিহাসিক দিন, ‘১৮১২০২২’, যা কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের তারিখের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
শৈশবে গ্রোথ হরমোনজনিত জটিলতার কারণে যখন পরিবারের পক্ষে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের চিকিৎসা খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তখন রিভার প্লেটের মাধ্যমেই ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। যদিও পরবর্তীতে ভাগ্যের ফেরে বার্সেলোনায় থিতু হন তিনি, তবুও রিভার প্লেটের সঙ্গে তার সেই পুরনো আত্মিক যোগসূত্র আজও অম্লান। আর তারই চূড়ান্ত রূপ হিসেবে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ জার্সিটি তিনি তুলে দিলেন এই ক্লাবের হাতে।
রিভার প্লেটকে দেওয়া সেই বিশেষ জার্সির গায়ে নিজের হাতে একটি বার্তাও লিখে দেন মেসি। পোশাকটির ওপর নিজের সই দিয়ে তিনি লেখেন, ‘রিভার প্লেটের ভক্তদের জন্য, অনেক ভালোবাসার সহিত, লিও।’
ক্লাবটির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করার পর মুহূর্তেই তা ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণ করে ক্লাবের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে তারা লিখেছে, ‘এক ঐতিহাসিক দিনে, সভাপতি স্তেফানো দি কার্লোর উপস্থিতিতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার তার সদস্যপদ কার্ড, স্মারক ফলক এবং নিজের নামাঙ্কিত পবিত্র জার্সিটি গ্রহণ করেছেন। ফুটবলের জন্য ধন্যবাদ, ক্যাপটেন!’
এদিকে বিদায়ের এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুটা হয়েছিল মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে। মূল ম্যাচ শুরুর আগে ইজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেস (ইউবিএ) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করেন মেসি। এই বিরল সম্মান অর্জনের পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এমন স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য একটি বড় সম্মান, বিশেষ করে আমি এখন গর্ব করে বলতে পারছি যে আমি একজন সম্মানসূচক ডক্টরেট।’