চুয়েটে এক দফা থেকে পিছু হটল শিক্ষক সমিতি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এক দফা কর্মসূচি থেকে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। এখন সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের পাশাপাশি চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশল শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী কমিটির জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছানের সঞ্চালনায় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পূর্বঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি কর্মসূচি চলমান রাখার সিদ্ধান্তও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কলের সাড়া দেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডিন বলেন, শিক্ষকরা এখনো তাদের এক দফা দাবিতেই আছেন। তবে সরকার যদি প্রথম দাবি না মানে, সেক্ষেত্রে চুয়েটের গ্রেড-১ পদমর্যাদার ২৬ জন অধ্যাপকের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পরদিন থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, গ্রাফিতি অঙ্কন, মুখোশমিছিল ও প্রতিবাদী কনসার্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

টানা ১৭ দিনের এই অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। একাধিক বর্ষের পাঠদান শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি কয়েকটি বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষাও শুরু করা যায়নি।

এ অবস্থায় দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।