চুয়েটে অচলাবস্থা কাটাতে উপাচার্যকে সংলাপের আহ্বান

উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান সাবেক চার ছাত্রনেতার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অবিলম্বে সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক চার নেতা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস রিয়াসাত হাসান সুমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভিপি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক কালচারাল সেক্রেটারি নাসিম হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক নেতারা বলেন, সংবিধিবদ্ধ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সেশনজটের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য নিয়োগ সরকারের সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তারা অভিযোগ করেন, চুয়েটের বর্তমান অচলাবস্থার পেছনে বহুমাত্রিক কায়েমি স্বার্থ কাজ করছে। ক্যাম্পাসে রাজনীতি স্থগিত থাকার সুযোগে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী একচ্ছত্র প্রভাব ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ছাড়া বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীর একটি বলয় বর্তমান সরকারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের একাংশের সংকীর্ণ স্বার্থ ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে নবনিযুক্ত বৈধ উপাচার্যকে অপসারণ করা যায় বলেও দাবি করেন সাবেক নেতারা।

তাদের মতে, এ ধরনের ত্রিমুখী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে চার দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সাবেক এই নেতারা। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় না পড়ে অবিলম্বে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিক্ষাসূচির ধারাবাহিকতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষায় শিক্ষকদের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে বসার অনুরোধ করেন তারা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারকে ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সবশেষে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে চুয়েট ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাবেক ছাত্রনেতারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত