ব্যক্তিগত ১ রান করতেই মুখে মৃদু হাসি নিয়ে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে বসে থাকা সতীর্থদের উদ্দেশে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন লিটন দাস। দেখে মনে হবে, হয়তো বিশেষ কোনো মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তবে যারা লিটনের সাম্প্রতিক ফর্মের খবর জানেন, তাদের এই রহস্য ভেদ করতে খুব সময় লাগেনি। সম্প্রতি টেস্টে ব্যাট হাতে একেবারেই ছন্দে নেই এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টানা ৩ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে সমালোচিতও হন। গতকাল আবুধাবিতে এই বৃত্ত ভেঙে খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ দলও ৩১৭ রান করেছে। তবে দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে পারেননি সফরকারীরা। ৮ উইকেট হারানোর আক্ষেপ তাদের।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরুর পরও এতগুলো উইকেট হারানোয় হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম, ‘সকালে আমরা আফগানিস্তানের বোলারদের খুব ভালোভাবে সামলেছি। ভালো একটা জুটিও হয়েছে আমাদের। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর ওরা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সে কারণেই দিন শেষে আমাদের আট উইকেট পড়ে গেছে।’
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাদমানকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ শুরু করেন তানজিদ হাসান তামিম। একদিকে এই তরুণ আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালান, অন্যদিকে সাদমান ছিলেন ধৈর্যশীল। আফগানিস্তানের বোলারদের দীর্ঘ সময় উইকেটের জন্য অপেক্ষায় রেখে বাংলাদেশের স্কোর এগিয়ে নেন তারা। দুজনের ব্যাটে প্রথম উইকেটে আসে ১২৪ রান। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে পর উদ্বোধনী জুটিতে ১০০ ছাড়ায় বাংলাদেশ। সেবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গী ছিলেন সাদমান। তবে গতকালের জুটি আরও বড় না হওয়ার আক্ষেপ ঝরল সাদমানের কণ্ঠে, ‘সবকিছুই ভালো ছিল। কিন্তু আমাদের শুরুটা আরেকটু ভালো হতে পারত।’
তামিম ৪১ বলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ফিফটি পূর্ণ করে সেঞ্চুরির দিকেই ছুটছিলেন। তবে ডানহাতি পেসার ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয় তাকে। মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রানে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর মুমিনুল হকের সঙ্গে ৬০ রানের জুটিতে ফিফটি পূর্ণ করেন সাদমানও। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর এই ব্যাটার ৬৭ রানে আউট হন। খানিক পর মুমিনুল ৩৯ রানে থামলে হঠাৎ ছন্দ হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মুশফিকুর রহিম শূন্য ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রানে ফিরে যান। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। এতেই সফরকারীরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বলে মনে করেন সাদমান, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বড় একটা জুটি গড়ার পর হঠাৎ কয়েকটি উইকেট পড়ে গেছে। সকাল থেকে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তাতে দেখেছি উইকেট ভালো ছিল।’
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন। মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। মিরাজ ৬৭ বলে ২৪ রান করে বোল্ড হলেও লিটন নিজের লড়াই চালিয়ে যান। ৮৯ বলে চারটি চারে ৫৩ রান করেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তার বিদায়ের পর একই ওভারে পেসার মোহাম্মদ সেলিমের বলে বোল্ড হন হাসান মাহমুদও। ফলে দিনের শেষ দিকে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দিন শেষে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত আছেন। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ইসমত আলম ও ইয়ামিন আহমদজাই পেয়েছেন দুটি করে উইকেট।
প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে নেমে দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে না পারলেও আবুধাবির গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় স্বস্তির কথা শোনালেন সাদমান, ‘আমরা যখন ঢাকায় অনুশীলন করি, তখন মাথায় ছিল যে দুবাইয়ে অনেক গরমের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি শিবিরও গরমের মধ্যেই হয়েছে। সে কারণে এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। এরপর দুবাইয়ে এসে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। সেখানেও অনেক গরম ছিল। এ কারণে এখানে ব্যাটিং করতে কিছুটা সহজ মনে হয়েছে।